ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা হলো না, সড়কেই ঝরল ৩ তরুণের প্রাণ

পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। কিন্তু আপনজনের কাছে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল তিন যুবকের জীবন। ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) রাত ৯টা ও ১১টার দিকে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদী গ্রামের কাঞ্চন মোল্লার ছেলে সাইফুল মোল্লা (২২), বরিশাল সদরের জাহাঙ্গীর শরীফের ছেলে আলী ইমরান শরীফ (২৩) এবং কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগরের বাসিন্দা জুয়েল। নিহত ইমরান ঢাকায় একটি গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ডেকোরেটর ব্যবসায়ী সাইফুল মোল্লা তার সহযোগী আবুল বাশারকে নিয়ে মোটরসাইকেলে চুমুরদী থেকে ভাঙ্গার দিকে যাচ্ছিলেন। একই সময়ে আলী ইমরান সহকর্মী রেজাউলকে সঙ্গে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি ফিরছিলেন। ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পূর্ব সদরদী এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেলের চালক নিহত হন।
এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- ভাঙ্গা উপজেলার গঙ্গাধরদী গ্রামের রইস মোল্লার ছেলে আবুল বাশার মোল্লা (২৫) এবং বরিশালের এয়ারপোর্ট শিবপয়সা এলাকার সাহেব আলীর ছেলে রেজাউল (২৩)। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল দুটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই মামুন জানান, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই চালক নিহত হয়েছেন। নিহত সাইফুল মোল্লার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে আলী ইমরানের মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল।
অন্যদিকে, বুধবার (২৭ মে) রাত প্রায় ৯টার দিকে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর চৌমুহনী এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জুয়েল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে করে নিজ গন্তব্যে যাচ্ছিলেন জুয়েল। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ইকোনো বাস তাকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় জুয়েল সড়কে ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জুয়েলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঈদের প্রস্তুতির মধ্যেও মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এই দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেপরোয়া গতির বাস চলাচলের কারণেই প্রতিনিয়ত সড়কে প্রাণহানি বাড়ছে।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া দিয়ে একই রুটের আরেকটি ইকোনো বাস আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে কিছু সময় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







