ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে ফিরল হত্যা মামলার আসামি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আলোচিত মস্তকবিহীন আব্রাহাম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মোবারক মন্ডলকে (৪৭) কাতার থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ইন্টারপোলের সহায়তায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বুধবার (২৭ মে) সকালে বাংলাদেশে আনা হয়।
দেশে আনার পর দুপুরে মোবারক মন্ডলকে আড়াইহাজার আমলী আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুর মোহসীনের আদালতে তিনি স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর আড়াইহাজার থানার দায়ের করা মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জাহিদ হোসেন রায়হানের নেতৃত্বে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি দল ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে মামলার আরেক আসামি রুহুল আমিন প্রকাশ রাব্বিকে (২৬) গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে রাব্বিও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তে উঠে আসে, নিহত আব্রাহাম খান ওরফে আলিম খান (২৭) রাজবাড়ীর পাংশা থানার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে আড়াইহাজার উপজেলার শ্রীনিবাসদী এলাকার একটি বালুর মাঠসংলগ্ন রাস্তার পাশে তার মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, আব্রাহামের সঙ্গে গ্রেপ্তার রাব্বির খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি প্রকাশ পেলে আব্রাহাম তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন। এর জের ধরে রাব্বি, তার খালা এবং সহযোগীরা হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার একদিন আগে বিদেশ থেকে গোপনে দেশে ফেরেন মূল পরিকল্পনাকারী মোবারক মন্ডল। পরে ১৫ ডিসেম্বর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আব্রাহামকে আড়াইহাজারে ডেকে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহের মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়।
ঘটনার পর আবার বিদেশে পালিয়ে যান মোবারক মন্ডল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া এবং ইন্টারপোলের সহায়তায় কাতারে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানিয়েছেন, মামলার অন্য আসামিদের, বিশেষ করে রুহুল আমিন রাব্বির খালা ও অজ্ঞাত সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রমও চলমান আছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







