• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

না বুঝে চামড়া কিনলে লোকসান, ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৮ মে ২০২৬, ০১:৫৬ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে আবারও জমে উঠবে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার। তবে বেশি লাভের আশায় পরিকল্পনা ছাড়া চামড়া ব্যবসায় নামলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, প্রতিবছরের মতো এবারও অসংখ্য মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়া কেনাবেচায় যুক্ত হবেন। কিন্তু বাজারদর, চামড়ার মান ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেকেই শেষ পর্যন্ত লোকসান গুনতে বাধ্য হন। তাই চামড়া সংরক্ষণ ও বাজার পরিস্থিতি বুঝেই ব্যবসায় নামার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছর দেশে এক কোটির বেশি পশু কোরবানি হতে পারে। এসব পশুর চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছে ট্যানারি খাত। ট্যানারিমালিকেরা এবার ৭৫ থেকে ৮০ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে রাজধানীতে কোরবানি হওয়া মোট চামড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ সরাসরি সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার নির্ধারিত দামে এ বছর ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার মূল্য প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, “সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী আড়তগুলো চামড়া কিনবে। পশু বড় না ছোট, সেটি বিবেচনায় নেওয়া হবে না; বরং বর্গফুট হিসাবেই দাম নির্ধারণ করা হবে। তাই বাজার পরিস্থিতি না বুঝে বেশি দামে চামড়া কিনলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, চামড়া সংগ্রহের পর দ্রুত আড়তে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। কারণ সময়মতো লবণ ব্যবহার করলে চামড়ার মান ভালো থাকে। বেশি সময় ফেলে রাখলে মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দামও কমে যায়।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, “বেশি লাভের আশায় অনেকেই চামড়া ধরে রাখেন। কিন্তু এতে লাভের চেয়ে ক্ষতির ঝুঁকিই বাড়ে। সন্ধ্যার মধ্যে চামড়া বিক্রি করা গেলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। কারণ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়ার মান ও দাম দুটোই কমতে থাকে।”

এদিকে বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, প্রান্তিক পর্যায়ের চামড়া সংগ্রহকারীরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে সরকার কঠোর নজরদারিতে থাকবে। প্রয়োজনে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপও করবে।

খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এবার চামড়া খাতে নগদ অর্থসংকটও রয়েছে। ট্যানারিগুলোর বকেয়া, ঋণসংকট এবং বাজারচাপের কারণে পুরো খাতেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় মৌসুমী ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বুঝেশুনে চামড়া কেনা, দ্রুত সংরক্ষণ করা এবং সঠিক সময়ে বিক্রি করা।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নৌযান চলে তিন লাখ, নিবন্ধিত মাত্র ২৩ হাজার: নৌ প্রতিমন্ত্রী
নৌযান চলে তিন লাখ, নিবন্ধিত মাত্র ২৩ হাজার: নৌ প্রতিমন্ত্রী
ই-ডায়েরিতে দেখুন ১০০ দিনে বিএনপি সরকারের অর্জন
ফ্যামিলি কার্ড থেকে খাল খনন ই-ডায়েরিতে দেখুন ১০০ দিনে বিএনপি সরকারের অর্জন
দেশ ছাড়লেন ড. ইউনূস
দেশ ছাড়লেন ড. ইউনূস