ভারতীয়দের এক বছর স্বর্ণ না কেনার আহ্বান মোদির

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে ভারতীয়দের অন্তত এক বছরের জন্য স্বর্ণ কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বর্ণ যেখানে ভারতের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেখানে তার এই বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (১০ মে) এক বক্তব্যে মোদি বলেন, ‘এক বছরের জন্য, যেকোনো অনুষ্ঠানেই হোক, আমাদের স্বর্ণর গহনা কেনা উচিত নয়।’ একইসঙ্গে তিনি জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলারও আহ্বান জানান।
মোদি বলেন, স্বর্ণ আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। তাই অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমানো এখন সময়ের দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট ভারতের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এতে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে এবং রুপির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তেলের পর ভারতের সবচেয়ে বড় আমদানি খাত হলো স্বর্ণ। বিশ্বে স্বর্ণ আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়।
তবে মোদির এই আহ্বানে সাধারণ মানুষ কতটা সাড়া দেবেন, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। কারণ ভারতে স্বর্ণ শুধু অলংকার নয়, বরং সঞ্চয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়। বিয়ে, ধর্মীয় উৎসব এবং বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে স্বর্ণ কেনাকে শুভ মনে করা হয়।
এদিকে মোদির মন্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারেও। সোমবার মুম্বাই শেয়ারবাজারে দেশের বৃহত্তম জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান টাইটান কোং-এর শেয়ার প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। একইভাবে সেনকো গোল্ড লিমিটেড এবং কল্যাণ জুয়েলার্স ইন্ডিয়া লিমিটেডের শেয়ার যথাক্রমে প্রায় ১১ শতাংশ ও সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়।
অন্যদিকে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ আমদানিতে সমস্যার মুখে পড়েছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি এপ্রিল মাসে ভারতের বাণিজ্য ভারসাম্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করেছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







