• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তিস্তার চরে বাম্পার ফলনের পরও ক্ষতির ধাক্কা:

মরিচ–পেঁয়াজে বড় লোকসানে রাজারহাটের কৃষকরা

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি    ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৪ পি.এম.
রাজারহাট উপজেলার তিস্তা চরাঞ্চলে সবুজ ফসলের মাঠ-ছবি-ভিওডি বাংলা

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে মরিচ, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষে বাম্পার ফলন হলেও শেষ পর্যন্ত শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির আঘাতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরাঞ্চলের ৫৬৩ জন কৃষকের প্রায় দুই কোটি টাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও আর্থিক অনিশ্চয়তা।

ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের তালিকায় রয়েছে ভুট্টা, চিনা, শাকসবজি, মরিচ, পেঁয়াজ ও কালোজিরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন মরিচ ও পেঁয়াজ চাষিরা। একদিকে শিলাবৃষ্টিতে গাছ ও ফলন নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও উঠছে না অনেক কৃষকের।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তা চর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দূর থেকে চরের বিস্তীর্ণ জমিতে সবুজের ঢেউ। বাদাম, চিনা, তিল, তিশি, মরিচ ও পেঁয়াজের ক্ষেতজুড়ে রয়েছে চোখজুড়ানো চাষাবাদ। তবে সেই সবুজের নিচেই লুকিয়ে আছে কৃষকদের ক্ষতি, ঋণের চাপ ও অনিশ্চয়তার গল্প।

চর গতিয়াসাম এলাকার প্রবীণ কৃষক আব্দুল আজিজ (৭২) জানান, তিনি ধার-দেনা করে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ করে ৯ শতক জমিতে মরিচ চাষ করেছিলেন। তার আশা ছিল ভালো দামে বিক্রি করে কিছুটা লাভ করবেন। কিন্তু প্রকৃতির বিরূপ আচরণে শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে গাছের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত খরচের টাকাও তুলতে পারেননি বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

একই এলাকার তার স্ত্রী আনোয়ার বেগম (৫০) বলেন, “মরিচ বিক্রির টাকায় সংসারের অনেক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় আমরা বড় ক্ষতির মধ্যে পড়ে গেছি।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে রাজারহাট উপজেলায় প্রায় ৮১৫ হেক্টর জমিতে মরিচ ও পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকেরা ভালো ফলনের পাশাপাশি তুলনামূলক ভালো দামও পেয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় অনেক কৃষক দ্রুত অপরিপক্ব মরিচ বাজারে তুলতে বাধ্য হন, ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গিয়ে দাম হঠাৎ পড়ে যায়।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফন্নাহার সাথী বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলে এবারের মৌসুমে ফসলের ফলন তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষকেরা তাদের শ্রম ও উদ্যোগের মাধ্যমে এই ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে মোট ৮ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৯৬ হেক্টর ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার ২২ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে তিস্তার চরাঞ্চলে একদিকে যেমন রেকর্ড পরিমাণ ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, অন্যদিকে প্রকৃতির হঠাৎ রুদ্ররূপ সেই সম্ভাবনাকে আঘাত করে কৃষকদের জীবনে নিয়ে এসেছে নতুন সংকট

ভিওডি বাংলা/ প্রহলাদ মন্ডল সৈকত/জা


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পাংশায় ১৪৪ ধারা অমান্য করে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ
পাংশায় ১৪৪ ধারা অমান্য করে বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে বড়াইবাড়ী দিবস পালন
কুড়িগ্রামে বড়াইবাড়ী দিবস পালন
গৌরীপুরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
গৌরীপুরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু