হরমুজে আড়াই মাস আটকা বাংলাদেশি জাহাজ, কূটনৈতিক চেষ্টায় সরকার

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) মালিকানাধীন বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছে। নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক জটিলতার কারণে জাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্যে অগ্রসর হতে পারছে না।
তবে এ বিষয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে না পারা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ইস্যুতে কূটনৈতিক পর্যায়ে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
জাহাজটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে বাংলাদেশ বা আঞ্চলিক একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। এর গন্তব্য ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বন্দর। যাত্রাপথে এটি মধ্যপ্রাচ্য হয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশ করে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের শেষের দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধাবস্থায় সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ট্রানজিট অনুমতির জটিলতার কারণে একাধিকবার প্রণালি অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়। পরে এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় নোঙর করে অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে।
জাহাজটি এখনো হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য কূটনৈতিক অনুমতি ও নিরাপদ করিডরের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজটি পার হতে না পারার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ নিয়ে কূটনৈতিকভাবে কাজ চলছে, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়।’
জাহাজে ২৫–৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন। নাবিকরা নিরাপদে আছেন এবং জাহাজটি নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কার্গো হিসেবে জাহাজটিতে সাধারণ বাল্ক বাণিজ্যিক পণ্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও নির্দিষ্ট মালামালের বিস্তারিত সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
জাহাজটির মালিক বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, যা সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক শিপিং রুট হওয়ায় এখানে সামান্য নিরাপত্তা ঝুঁকিও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলে। এ কারণে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রায়ই কূটনৈতিক অনুমতির ওপর নির্ভর করতে হয়।
বর্তমানে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এর পরবর্তী গন্তব্য অনিশ্চিত।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এমএস







