প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে:
পাওনা টাকা না পেয়ে বসতঘরের আসবাবপত্র খুলে নেওয়ার অভিযোগ

নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে পাওনা টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক বসতঘরের চালার টিন, বেড়া, রান্নাঘরের খুঁটি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র খুলে নিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী পক্ষের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি সামনে আসে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল)।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, রুখালী গ্রামের জাহিদ সিকদার একই এলাকার কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা ধার নেন। পরবর্তীতে পাওনাদাররা বারবার টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা পরিশোধে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে জানা গেছে।
এরপর নির্ধারিত সময়ে টাকা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পাওনাদার পক্ষের মিজানুর বিশ্বাস, মিরাজ বিশ্বাস, মিকাইল বিশ্বাস ও ইয়াসিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল লোক জাহিদের বাড়িতে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রথম দফায় তারা বসতঘরের চালার টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় গিয়ে তারা ঘরের রান্নাঘরের চালা, খুঁটি এবং ঘরের ভেতরের বিভিন্ন আসবাবপত্রও খুলে নিয়ে যান বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। পুরো ঘটনাটি ঘটে বাড়ির মালিক অনুপস্থিত থাকার সুযোগে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘরের টিন ও আসবাবপত্র খুলে নেওয়ার সময় ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন জাহিদের ৮০ বছর বয়সী দাদি খাতিজা বেগম। তিনি জানান, হঠাৎ করেই কয়েকজন এসে ঘরের টিন খুলতে শুরু করে এবং ভ্যানে করে সেগুলো নিয়ে যায়। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং লাঠি ভর দিয়ে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পে যান বলেও উল্লেখ করেন।
খাতিজা বেগম আরও বলেন, “আমি বুড়ো মানুষ, আমার কথায় কেউ আসেনি। পুলিশ আসলে আমার ঘর ভাঙতে পারত না।”
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, “ঘরের চালা খুলে নিয়ে গেছে—এমন কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় আসেনি।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ থাকলেও ঘর ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়া আইনের লঙ্ঘন, আবার কেউ বিষয়টি পারস্পরিক দেনাপাওনার জটিলতা হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
ভিওডি বাংলা/মো. মাহফুজুর রহমান/জা







