কুড়িগ্রামে বিদেশি আঙ্গুর চাষে ব্যাংক কর্মকর্তার চমকপ্রদ সাফল্য

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষ করে নজর কাড়ছেন ব্যাংক কর্মকর্তা রুহুল আমিন। শখ থেকে শুরু করা এই উদ্যোগ এখন একটি সফল কৃষি প্রকল্পে রূপ নিয়েছে। আধুনিক পদ্ধতি, নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তার আঙ্গুর বাগান এখন বাম্পার ফলন দিচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের আজোয়াটারী গ্রামে তিনি প্রায় এক বিঘা জমিতে ‘বাইকুনুর’ জাতের বিদেশি আঙ্গুর চাষ করেছেন। চার বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা এই চাষ বর্তমানে বাণিজ্যিক সাফল্যে পৌঁছেছে। তার বাগানে প্রায় ৪০০টি আঙ্গুর গাছ রয়েছে, যেখানে থোকা থোকা আঙ্গুর ঝুলে আছে, যা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার মানুষ।
রুহুল আমিনের এই বাগান এখন শুধু আঙ্গুর উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় কৃষি প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে। অনেক দর্শনার্থী বাগান ঘুরে দেখে আগ্রহী হয়ে চারা সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে আঙ্গুর চাষ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন সফলতাও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় দর্শনার্থী রাশেদুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম ও অনিল চন্দ্র জানান, ফুলবাড়ীর মতো এলাকায় বিদেশি আঙ্গুর চাষ সফল হতে পারে—এটি আগে কেউ ভাবেনি। কিন্তু রুহুল আমিনের বাগান দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন। তারা বলেন, “এত ভালো আঙ্গুর এখানে উৎপাদন হচ্ছে, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমরা চারা নিয়ে নিজেরাও চাষ শুরু করেছি এবং ভালো ফল পাচ্ছি।”
উদ্যোক্তা রুহুল আমিন জানান, দীর্ঘ চার বছরের পরিশ্রমের ফল এখন তিনি পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এক বিঘা জমি থেকে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা আয় সম্ভব।” তিনি আরও জানান, দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আঙ্গুর রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
তার বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন পাঁচজন শ্রমিক। তারা জানান, নিয়মিত কাজের মাধ্যমে পাওয়া আয় দিয়ে তাদের সংসার ভালোভাবে চলছে। এতে এলাকায় কর্মসংস্থানের একটি নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, রুহুল আমিনের আঙ্গুর চাষ সফল হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত চারা বিক্রিও করছেন। কৃষি অফিস থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এমন উদ্যোগ এলাকায় আধুনিক কৃষির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আগ্রহ থাকলে চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকার জমিতেও উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন সম্ভব। রুহুল আমিনের এই উদ্যোগ সেই সম্ভাবনারই বাস্তব উদাহরণ।
সব মিলিয়ে, ব্যাংক কর্মকর্তা রুহুল আমিনের আঙ্গুর চাষ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীসহ পুরো অঞ্চলে নতুন কৃষি সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তরুণদের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণার গল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও অনেককে কৃষি উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করবে।
ভিওডি বাংলা/জা







