ম্যাচ বিশ্লেষণ
যেভাবে শেষ ষোলোতে কানাডা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে ইতিহাস গড়েছে কানাডা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে স্টিফেন ইউস্টাকিওর দুর্দান্ত গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে জেসি মার্শের দল।
পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান। তবে শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেন কানাডার অধিনায়ক স্টিফেন ইউস্টাকিও, যিনি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন।
শেষ মুহূর্তের জাদু
ম্যাচটি যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই বক্সের বাইরে ভাসা বল নিয়ন্ত্রণ করে অসাধারণ এক শটে দক্ষিণ আফ্রিকার জালে বল জড়িয়ে দেন ইউস্টাকিও।
৯২তম মিনিটের সেই গোলেই ইতিহাস রচনা করে কানাডা।
নকআউট ম্যাচে এমন ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং প্রমাণ করে, বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর মানসিকতা এই দলের মধ্যে তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই বৃথা গেল
প্রথমার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন আক্রমণ গড়লেও শেষ পাসের দুর্বলতায় গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
অন্যদিকে কানাডাও বিরতির আগে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। একবার ডিফেন্ডার অব্রে মোডিবা গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন, পরে গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও উইলিয়ামস কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ম্যাচ জমিয়ে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইউস্টাকিওর নিখুঁত শট ঠেকানোর কোনো সুযোগ তার ছিল না।
আলফন্সো ডেভিসের প্রত্যাবর্তন
৭৫ মিনিটে মাঠে নামেন কানাডার তারকা আলফন্সো ডেভিস।
চোট কাটিয়ে তার প্রত্যাবর্তনে স্টেডিয়ামজুড়ে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। মাঠে নেমেই নিজের গতি ও ড্রিবলিং দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন তিনি।
যদিও গোলটি তার পা থেকে আসেনি, তবে তার উপস্থিতি কানাডার আক্রমণে নতুন গতি এনে দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায়, তবুও গর্বের গল্প
হারের কষ্ট নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে এই আসর তাদের জন্যও স্মরণীয়। কারণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
অভিজ্ঞ কোচ হুগো ব্রুসও নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন। ৭৪ বছর ৭৯ দিন বয়সে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ম্যাচ পরিচালনা করা সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন।
সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা
এই জয়ের ফলে কানাডা এখন শেষ ষোলোতে মরক্কো অথবা নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে।
গ্রুপ পর্বের পর নকআউটেও নিজেদের মানসিক দৃঢ়তা দেখানো কানাডা এখন আর শুধু চমক নয়, সম্ভাব্য বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
ইউস্টাকিওও ম্যাচ শেষে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছেন, পরের প্রতিপক্ষ যেন প্রস্তুত থাকে, কারণ কানাডা তাদের জন্য বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষণ
এই ম্যাচে কানাডার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ধৈর্য। তারা তাড়াহুড়ো করেনি, নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থেকেছে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণের ধার বজায় রেখেছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সংগঠিত ফুটবল খেললেও আক্রমণের শেষ মুহূর্তে কার্যকারিতার অভাব তাদের বিদায় নিশ্চিত করেছে।
স্টিফেন ইউস্টাকিওর শেষ মুহূর্তের গোল শুধু একটি ম্যাচের ফল বদলায়নি; এটি বিশ্বকাপে কানাডিয়ান ফুটবলের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা শেষ ষোলোতেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে কি না।
সূত্র: ফিফা
ভিওডি বাংলা/আরআর/আ








মন্তব্য