আলজাজিরার বিশ্লেষণ
হরমুজে ভিন্ন নৌপথই কি নতুন উত্তেজনার কারণ?

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন নৌপথ নির্ধারণের উদ্যোগই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সপ্তাহান্তে দুই দেশের মধ্যে যে সামরিক উত্তেজনা দেখা গেছে, তা আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারত। তবে উভয় পক্ষই মূলত সামরিক শক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা ও প্রস্তুতির বার্তা দিতে চেয়েছে।
বারাকাতের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট। সেই অস্পষ্টতাই নতুন বিরোধের সুযোগ তৈরি করেছে।
তার ব্যাখ্যায়, উত্তেজনার সূত্রপাত হয় যখন ইরান এবং ওমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য আলাদা দুটি রুট নির্ধারণ করে।
তিনি বলেন, ইরান সম্ভবত এটিকে শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং নিজেদের কর্তৃত্বের প্রশ্ন হিসেবেও দেখেছে। সে কারণে তেহরান একটি নির্দিষ্ট নৌপথ ঘোষণা করে জানায়, সেই পথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সক্ষম।
অন্যদিকে, বারাকাতের দাবি, ওমান জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজ চলাচলের জন্য ভিন্ন একটি রুটের পরিকল্পনা করেছে।
তার মতে, এই দুই ভিন্ন উদ্যোগই উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একটি জটিল অবস্থায় ফেলেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে নিরাপত্তা বা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেকোনো বিরোধ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে অধ্যাপক সুলতান বারাকাতের এই বিশ্লেষণ তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। হরমুজ প্রণালিতে পৃথক নৌপথের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ওমান কিংবা জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য