ক্ষমতা নয়, বিএনপি নির্বাচন চায়- আবদুস সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম বলেছেন, ‘দশ মাস চলে গেছে, তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) খালি সংস্কার সংস্কার করছে। এই পর্যন্ত কিছুই দেখাতে পারে নাই।তাদেরকে বলব জিয়াউর রহমান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। মুক্তিযোদ্ধাদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। আমরা দশ মাসে এদেশ স্বাধীন করেছি। আর আপনি-আপনারা দশ মাসে এখন পর্যন্ত ঢাকা ট্রাফিক সমস্যার সমাধান করতে পারলেন না। শেখ হাসিনার একটা বিচার করতে পারলেন না। যারা চুরি-ডাকাতি করে সব ব্যাংক খালি করেছে তাদের একটা বিচার করতে পারলেন না। শুধু বলছেন, বিএনপি নাকি নির্বাচন চায় ও ক্ষমতা চায়।’
রোববার (১জুন) কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতা চায় না; বিএনপি নির্বাচন চায়। ৭ই নভেম্বর আগে খালেদ মোশারফ যখন ক্ষমতা নেয় তখন কিন্তু এই দেশের মানুষ ভয় পেয়েছিল আবার ভারত আমাদের দেশে এসে খবরদারি করে কিনা। এখনো আমরা ভয় পাই পরাজিত ফ্যাসিবাদ শেখ হাসিনা ওই ভারতে বসে যখন বলে আমি সীমান্তের কাছাকাছি আছি যে কোনো সময় আইসা পড়ব। শেখ হাসিনা তো নির্বাচিত ছিল না জোর করে ক্ষমতায় ছিল। তারপরও সে বলেছেন আমরা নির্বাচন চাই। রাতে আর সে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বলতে না পারে। জাতীয় বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশে একটা নির্বাচিত সরকার আছে।
বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা বলেন, আমরা ভয় পাই যে ইউনুস সাহেব একদিন পরপর আমার সীমান্ত নিয়ে। ওই ভারত থেকে পুশিং করা হচ্ছে বলে তারা নাকি অবৈধ বাংলাদেশ। যদি অবৈধ বাংলাদেশি হয় তাহলে সরকারের মাধ্যমে আলোচনা করে সরকারের কাছে আমাযর সেনাবাহিনীর কাছে বিজিবি বর্ডার গার্ড যারা আছে তাদের কাছে বুঝিয়ে দেবেন আপনি পুশিং করেন কেন। তখনই তো আমাদের সন্দেহ হয় সেই কারণেই নূর সাহেব ব আপনি কেন প্রতিবাদ করেন না। পুশিং বন্ধ করেন আর যদি পুশিং করতেই হয় তাহলে হাসিনার বিচার এখনো শুরু করতে পারেন নাই ওই হাসিনারে পুশিং কইরা দেশে পাঠাতে বল,ওবায়দুল কাদের মাজা ভাঙ্গা ওবায়দুল কাদের। বিএনপি ক্ষমতার জন্য নির্বাচন চায়না। এই বাংলাদেশে তারেক রহমানের নির্দেশে কামরাঙ্গীরচর সহ সারা ঢাকা শহর সারা বাংলাদেশ আমরা হিন্দুদের যখন পূজা হয় পূজা মন্ডপ আমরা পাহারা দিয়েছে কোন গোলমাল যাতে না হয়। কোথাও কিছু হয়নি কিন্তু এই ভারতের পত্র পত্রিকায় প্রচার করছে বাংলাদেশ নাকি হিন্দুরা খুব কষ্টে আছে।
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্যে করে আবদুস সালাম বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে ষড়যন্ত্র চলছে আপনি তো থামাতে পারছেন না এই কারণে আমরা নির্বাচন চাই। ১০ মাসে বাংলাদেশের নতুন কোন বিনিয়োগ আসে নাই। নতুন কোনো ইন্ডাস্ট্রি হয় নাই, নতুন কোনো উৎপাদন হয় নাই। মোটকথা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যাই করুন না কেন ভালোর দিকে নাই। যা বাংলাদেশে নামকরা অর্থনীতিবিদরা বলছেন। দশ মাসে আপনার সরকার থেকে প্রকাশিত হয়েছে এখানে গত দশ মাসে বেকার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। বেকার সংখ্যা আপনি থামাতে পারতেছেন না; এটার জন্য আমরা নির্বাচন চাই। ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করার জন্য নির্বাচন চাই; আরেকটা হল ওই রোহিঙ্গাদের এখনো ফেরত পাঠাতে পারেন নাই। শেখ হাসিনাও পারে নাই আপনিও পারেন নাই। উল্টা রোহিঙ্গাদের জন্য মানব করিডোর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। পৃথিবীর যতগুলো দেশে মানব করিডোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেই সব দেশে সার্বভৌমত্বের সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে। আপনি চুপিচুপি করিডোর দিয়ে দিবেন ওই কারণেই আপনাকে আমরা বেশি সময় দিতে চাই না। আমরা নির্বাচিত সরকার চাই। আমাদের চট্টগ্রামের পোর্ট হলো আমাদের লাভজনক প্রতিষ্ঠান আপনি ওই পোর্টকে বিদেশিদের কাছে ইজারা দিয়ে দিতে চান? কে দিয়েছে আপনাকে সেই ক্ষমতা।
তিনি বলেন, একাত্তরের ২৫ শে মার্চ বাংলাদেশের মানুষের উপরে পাকিস্তানিরা গণহত্যা চালিয়েছিল। নিরিহ পুলিশ, বিডিআর, সাধারণ মানুষদেরকে হত্যা করছিলো। সেই সময় প্রতিবাদ প্রতিরোধ যাদের করা উচিত ছিল সেই আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিব তখন পাকিস্তানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান চলে গিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় দেশের টানে জিয়াউর রহমান রিভোল্ড করেছিলেন। পরবর্তী পর্যায়ে কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ছিলেন। আবার ৭২ থেকে ৭৫ যখন এই দেশ চলছিল না। মুজিবকে হত্যা করার পরে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ছিল শেখ হাসিনার প্রিয় চাচা খন্দকার মোস্তাক তার বাবা কে হত্যা করার পর রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিলেন। কিন্তু এই দেশ চলছিল না। কোথাও শৃংখলা ছিল না সেনাবাহিনীতে কু কাউন্টার চলছিল। ৭৫ এর নভেম্বর মাসে ২ তারিখ থেকে পাঁচ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্ষমতা কে আছে কেউ জানে না, দেশ কিভাবে চলছে কেউ জানে না।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ







