• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ঢাকা-সিলেট রুটে সড়ক ও রেল যোগাযোগের কাজ শুরু : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২ মে ২০২৬, ০৩:৩৬ পি.এম.
সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গনে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী : ছবি-ভিওডি বাংলা

ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ সরকার শুরু করছে’ বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গনে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই কথা জানান।

সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দরয বর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো  নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় যখন আমি এসেছিলাম আমি প্লেনে এসেছিলাম কিন্তু যাবার সময় আমি সড়ক পথে গিয়েছিলাম নির্বাচনী জনসভা করতে করতে এবং সেদিন আমি বলেছিলাম যে সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব নয় সাড়ে ঘন্টা সময় লাগে কিন্তু বাই রোড যাবার অবস্থা রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ প্রায় ১০ ঘন্টা সময় লেগে যায় এবং সেদিন বলেছিলাম যে আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ইনশাআল্লাহ আমরা এই কাজটিতে হাত দিব যাতে এটা দ্রুত হয়।”

সরকার গঠন করার পরে এই দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। আমি তখন জানতে পারলাম যে, খুব সম্ভবত কাজটি যখন শুরু হয় বিভিন্ন জয়গায় তাদের যে কোম্পানিগুলো কাজ করবে তাদের যে সাইট অফিস থাকে সেখানে জমি একোয়ার করতে হয় সাইট অফিস এবং বিভিন্ন কারণে ১১টি জায়গায় যেখানে সমস্যা রয়ে গিয়েছে… প্রশাসনিক সমস্যা রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। আমি আশা করছি ইনশাল্লাহ দ্রুততম সময় আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। সময় লাগবে তবে কাজটি শুরু করলে ইনশাল্লাহ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা ইনশাল্লাহ শেষ করতে পারব। তার ফলে মানুষের যাতায়াতে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোড যাতায়াতের এত কষ্ট মানুষকে ইনশাল্লাহ ভোগ করতে হবে না।”

‘সিলেটে ডাবল লাইনে রেল’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা যদি রেলওয়ে যেখানে আমরা কম খরচে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারি। একই সাথে ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসায়িক মাল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রেও খরচ কম খরচে আনতে পারেন। আমরা যদি রেলওয়েটাকে ডেভেলপ করতে পারি। বর্তমান সরকার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করছে যে সারাদেশে কিভাবে রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করা যায়। রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করলে স্বাভাবিকভাবে অধিকাংশ মানুষ এটিতে যাতায়াত করবেন, এটিতে খরচ কম হবে, সেটি ব্যবসায়িক কারণে খরচ কম হবে।”

সড়ক পথের থেকে রেল পথের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা রাস্তা যতই বড় করতে থাকি ততই গাড়ি নামবে রাস্তায়। ট্রাফিক বাড়বেই। আরেকটি বিষয় আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন জনসংখ্যার ভিত্তিতে আমরা পৃথিবীর খুব সম্ভবত অষ্টম স্থানে আছে।” 

কিন্তু আমরা ল্যান্ডওয়াইজ যদি চিন্তা করি আমাদের দেশটা হয়তো অত বড় না। অনেক দেশ থেকেই ছোট। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলাদেশ হচ্ছে একটি কৃষি প্রধান দেশ। সেজন্য রাস্তা যদি নির্মাণ করি আমরা একই সাথে কিন্তু আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে… সেই বিষয়টাকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

এত বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর খাবার তো আমরা বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করা সম্ভব না এবং আমরা আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটিভাবে খাদ্য স্বয়ংসপূর্ণ । কাজেই এটিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।

অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করব কিন্তু রেলটাকে আমরা ডেভেলপ করতে চাই। আপনারা নিশ্চয়ই ইন্টারেস্টেড হবেন যে, ঢাকা ঢাকা সিলেট বা সিলেট ঢাকার রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন। আমরা চেষ্টা করছি সিলেটে ডবল লাইন কিভাবে করা যায় ? ডাবল লাইনের মাধ্যমে এই সমস্যাটা সমাধান করা যায়?

শুধু সিলেট নয় সারা দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করছে বলে সরকারের উদ্যোগের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় যখন আমি এসেছিলাম আমি প্লেনে এসেছিলাম কিন্তু যাবার সময় আমি সড়ক পথে গিয়েছিলাম নির্বাচনী জনসভা করতে করতে এবং সেদিন আমি বলেছিলাম যে সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব নয় সাড়ে ঘন্টা সময় লাগে কিন্তু বাই রোড যাবার অবস্থা রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ প্রায় ১০ ঘন্টা সময় লেগে যায় এবং সেদিন বলেছিলাম যে আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ইনশাআল্লাহ আমরা এই কাজটিতে হাত দিব যাতে এটা দ্রুত হয়।” 

এছাড়া সিলেটে জলাবদ্ধতা দুরীকরণ সিটি করপোরেশনের প্রকল্প গ্রহনের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। খাবার পানির সদস্যা সমাধানে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার ভবিষ্যতে সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আন্ডার গ্রাউন্ড পানি ব্যবহার বেশি করে  মাটির নিচে এই পানির ওয়াটার লেভেল যেটা আছে সেটা ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে সেটিও মাথায় রাখতে হবে...। আমরা যে খাল খনন একটি কর্মসূচি শুরু করেছি এই কর্মসূচির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কিন্তু এই সমস্যাগুলোকে এড্রেস করার জন্য।”

আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল যেটা আছে সেটা শুধু সিলেট সিটি কর্পোরেশনে নয় এই সমস্যা ঢাকাতে হচ্ছে, এই সমস্যা অন্য অনেক শহর বড় সমস্যা হচ্ছে। যেভাবে আমরা মাটির নিচে যে পানি আছে এটিকে যেভাবে টেনে তুলছি … এটি ধীরে ধীরে একটি ভয়াবহ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা পুরো পরিস্থিতিটাকে এখনই এড্রেস করতে চাই তাহলে সবচেয়ে প্রথম যে উপায়টি হচ্ছে আমাদেরকে খাল খনন করতে হবে এবং খাল খননের মাধ্যমে এই যে পানিগুলো দেখুন বর্ষার সময়,বৃষ্টির সময় এত পানি আসছে তা জলাধার তৈরি হয়েছে কাজে লাগাতে হবে।”

সিলেটে জলাবদ্ধা নিরসনে ময়লা-আবর্জনা-পলিথিন ইত্যাদি অপসারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমাদের মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকে আমি অনুরোধ করব অবশ্যই আপনারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করবেন মানুষ যাতে সেবা পায় কিন্তু একই সাথে পাশাপাশি যদি আপনারা মানুষকে এওয়ার করার জন্য, সচেতন করার জন্য কতগুলো উদ্যোগ নেন। যেমন প্লাস্টিক পলিথিন কাগজ যেকোন বর্জদ্রব্য হোক না কেন এই জিনিসগুলো যন্ত্রতন্ত্র যাতে আমরা না ফেলি তার উদ্যোগ নিতে হবে।”

“আপনারা বিশেষ করে যতগুলো সিটি কর্পোরেশন স্কুল আছে ছোট ছোট বাচ্চা বিশেষ করে প্রাইমারি স্কুল হাই স্কুল এই বাচ্চাদেরকে যদি এই জিনিসটা শেখানোর উদ্যোগ নেন সেটা ভালো ফল দেবে। কারণ কি? বড়রা শিখলেও কিছু শুনলেও সমাজে শিখতে চায় না। ২৫,৩০,৩৫ ও ৪০ বছরের মানুষকে যদি আপনি কিছু শিখাতে চান অনেক বেগ পেতে হয়। আর আপনি যদি একটা ছোট বাচ্চাকে যদি ভালো কিছু শেখান ওটা কিন্তু তার মাথায় ঢুকে যায় এবং ছোট বাচ্চাকে যদি আপনি সেটা শিখিয়ে ফেলতে পারেন সবচেয়ে বড় যেটা সুবিধা হয় সে স্কুলে ভালো জিনিস যেটা শিখে আসবে সেটা সে যেমন ফলো করবে সে তার বাবা-মাকেও মানতে বাধ্য করবে।”

সেজন্য আমি সিলেটসহ সব সিটি কর্পোরেশনকে অনুরোধ করবো আপনারা যদি অন্তত আপনাদের এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের ভিতরে যে সকল স্কুল আছে সে স্কুলগুলোতে যদি আপনারা কোন উদ্যোগ দিয়ে বাচ্চাদেরকে এই বিষয়গুলোতে সচেতন করতে পারেন তাহলে আমরা ধীরে ধীরে এই কাজটি শুরু করতে পারব। এতে পরিবেশকে আমরা আস্তে আস্তে আস্তে ঠিক করে আনতে পারব। মনে রাখতে হবে আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তারা দেশ এবং জাতির জন্য ভালো কোন কিছু আজকে যেটা শিখবে ডেফিনেটলি তারা যখন বড় হবে তারা ইনশাল্লাহ যখন একটি অবস্থানে যাবে কেউ না কেউ তারা সেটি দেশের জন্য সমাজের জন্য মানুষের জন্য তারা এপ্লাই করবে।”

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ প্রমূখ, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে বিএনপি কখনোই একমত হয়নি : মির্জা ফখরুল
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে বিএনপি কখনোই একমত হয়নি : মির্জা ফখরুল
হালনাগাদ হচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা : ডিএমপি কমিশনার
হালনাগাদ হচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা : ডিএমপি কমিশনার
দেশের আইন অমান্য করে রাজনীতি করার সুযোগ নেই: নজরুল ইসলাম
দেশের আইন অমান্য করে রাজনীতি করার সুযোগ নেই: নজরুল ইসলাম