সংসদে না থাকলেও দলের প্রতিনিধিত্ব করব: নুসরাত তাবাসসুম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম বলেছেন, তিনি সংসদে থাকুন বা না থাকুন, সবসময় নিজের দলের প্রতিনিধিত্ব করে যাবেন এবং রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি অটল থাকবেন।
শনিবার (২ মে) নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নুসরাত তাবাসসুম বলেন, “গেজেট প্রকাশের পর শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসবে। এখনো পর্যন্ত দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। তাই এ মুহূর্তে দূরবর্তী কোনো রাজনৈতিক ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।” তিনি আরও জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া বা না পাওয়া-দুই ক্ষেত্রেই তিনি দলের সিদ্ধান্ত ও আদর্শ অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবেন।
এ সময় এনসিপির আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা জানান, প্রচলিত আইন অনুযায়ী একটি দল থেকে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দলীয়ভাবে এনসিপি থেকে দুইজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
তবে তাদের মধ্যে মনিরা শারমিনের মনোনয়ন আইনগত জটিলতার কারণে গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তীতে আপিল করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। বর্তমানে বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
জানা যায়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর নির্ধারিত তিন বছরের সময়সীমা পূর্ণ না হওয়ায় মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এ ঘটনার পর এনসিপির পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়নপত্র জমা দেন, যা নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দাখিল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে শুরুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন গ্রহণ করেননি।
পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। আদালতের ওই নির্দেশনার পরই তার প্রার্থিতার বৈধতা নিশ্চিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও দলীয় কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই প্রক্রিয়ার সময়সীমা এবং আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে।
এদিকে নুসরাত তাবাসসুমের বক্তব্যে দলীয় আনুগত্য ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হলেও বিষয়টি ঘিরে এনসিপির অভ্যন্তরীণ কৌশল এবং ভবিষ্যৎ সংসদীয় ভূমিকা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







