দ্রুত নির্বাচন দিন; সমস্যার সমাধান হবে- দুদু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকার ও সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিন। তারা যেন পছন্দমত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে; সেই ব্যবস্থা করুন। দেখবেন সকল সমস্যার সমাধান শেষ হয়ে যাবে। আর এটা যদি মানতে না পারেন তাহলে বস্তা বস্তি বেঁধে রাখা ভালো। গণতন্ত্র ভোটাধিকার না আসলে অতীতের মতো হতে পারে। এই কথা বলতে আমাদের খারাপ লাগে কারণ বিএনপি, ছাত্রজনতা আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। এ কথাটা আপনাদের মাথায় রাখতে হবে ‘
বুধবার (০৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে নির্বাচনী রোড ম্যাপ ঘোষণার দাবিতে এক নাগরিক সমাবেশে’ তিনি এসব কথা বলেন।
দুদু বলেন, ‘আমাদের দেশনেত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল বাংলাদেশে এসেছেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি তার সারাটা জীবন আন্দোলন করেছেন বিলিয়ে দিয়েছেন। এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি সব বিপদ বরণ করে নিয়েছেন। ১৯৭১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতার ঘোষণা করেন তখন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রেখেছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।’
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পরে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৯০ এর ছাত্র জনতা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারকে পতন করেছে। কারণ ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের সিপাহসালার যারা ছিলেন তারা সবাই বেগম জিয়াকে নেত্রী হিসাবে মানতেন; শেখ হাসিনা কে না। সে সময় শেখ হাসিনা আপস করতে চেয়েছিল। এই রাগে তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি ছাত্রলীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, সেই আপোষীর নেত্রী খালেদা জিয়া গতকাল বাংলাদেশে এসেছেন। তাকে বরণ করার জন্য বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত জনস্রোতের ঢল নেমেছিল। এই জনতার ঢল হচ্ছে গণতন্ত্রের মাতাকে বরণ করে নেওয়া। গণতন্ত্রকে বরণ করে নেওয়া। স্বাধীনতাকে বরণ করে নেওয়া। এটি বর্তমান সরকার বুঝতে পারলে দেশের সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে।
তিনি বলেন, আইয়ুব খান স্বৈরাচারী পন্থায় ১০ বছর ক্ষমতায় ছিল কিন্তু এ দেশের ছাত্র জনতা ৬৯ এ তাকে পতন করে। পরে মুক্তিযুদ্ধ হয় এবং বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়। গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতার কারণে স্বৈরাচার এরশাদকে পতন করেছিল এদেশের ছাত্র জনতা। এদেশের ছাত্র ও জনগণ গণতন্ত্রের জন্য ফ্যাসিবাদ শেখ হাসিনাকে বিদায় করেছে এটা যদি এ সরকারের বুঝতে না পারে তাহলে খুবই দুঃখজনক।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি ও ছাত্রদলসহ তার অঙ্গ সংগঠনের ৫ হাজার নেতাকর্মী গুম হয়েছে খুনের স্বীকার হয়েছে, নিখোঁজ হয়েছে। এটা যদি বর্তমান সরকার বুঝতে না পারে তাহলে তারা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা প্রতি শ্রদ্ধাশীল এটা বলা যাবে না।
বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গণতন্ত্র না মানার কারণে আইয়ুব খান পালিয়েছে। একদল কায়েম করার কোন জন্য এসে মুজিবুর রহমানের ভয়ংকর পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর গণতন্ত্র হরণ ফ্যাসিবাদ কায়েম করার জন্য শেখ হাসিনাও পালাতে বাধ্য হয়েছে। তাই গণতন্ত্র মেনে নেন। নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণা করুন। জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেন।
দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপত্বিতে নাগরিক সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এড.আরিফা সুলতানা রুমা সহ সংগঠনটি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচপি






