শামসুজ্জামান দুদু
এই সরকারের আমলে ২য় পদ্মা সেতু শুরু ও শেষ করতে হবে

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, এই সরকারের আমলেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করে শেষ করতে হবে। তিনি বলেন, “কারণ সরকার আমাদের, দাবিও আমাদের।”
রোববার (৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে পাটুরিয়া কাজিরহাট দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে পাটুরিয়া কাজিরহাটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দাবিতে এক গোল টেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এটি নতুন কোনো দাবি নয়; প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে কুষ্টিয়া, পাবনা ও আশপাশের অঞ্চলের মানুষ এ দাবি জানিয়ে আসছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি এ দাবির সঙ্গে পরিচিত বলে উল্লেখ করেন।
অতীতের যোগাযোগব্যবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশভাগের আগে চুয়াডাঙ্গা থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যাতায়াত করা যেত। কিন্তু পরবর্তীতে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত অনিশ্চিত হয়ে ওঠে, যা তিনি নিজের ছাত্রজীবনে অনুভব করেছেন।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, একসময় পদ্মা নদী পারাপারে ফেরি চলাচল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ এবং কষ্টসাধ্য। বড় ঢেউয়ের মধ্যে ফেরি চলাচলের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, এতে মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করত। তবে বর্তমানে সেতু নির্মাণের ফলে যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে।
পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে দুদু বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিক সেতু নির্মাণের দাবি ছিল। দলের সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একাধিক পদ্মা সেতুর কথা বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, এটি শুধু রাজনৈতিক দাবি নয়, বরং বাস্তব প্রয়োজনের বিষয়।
দুদু বলেন, একটি সেতু শুধু যোগাযোগ সহজ করে না; এটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নত দেশে একটি নদীর ওপর একাধিক সেতু থাকা স্বাভাবিক বিষয়।
তিনি আরও বলেন, যে স্থানে সেতুটি হওয়ার কথা ছিল, সেটি নানা কারণে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন না, তবে ওই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
দুদু বলেন, দেশের উন্নয়নে আঞ্চলিক চিন্তার বাইরে গিয়ে সামগ্রিকভাবে ভাবতে হবে। পদ্মার ওপারের মানুষ একসময় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ব্যবসায় এগিয়ে ছিল এবং তারা সরাসরি কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।
তিনি বলেন, এখন এই সেতু নির্মাণই একমাত্র দাবি এবং এ বিষয়ে কোনো আপস নেই। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মোঃ আবু তোহা, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রফিকুল ইসলাম রিপনসহ প্রমুখ।
ভিওডি বাংলা/এসআর







