সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে : নাহিদ ইসলাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ‘ব্যর্থ হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার তা না করে নিজের মতো সংসদ পরিচালনা করেছে। এভাবে করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আমাদের একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াবে।
রোববার (৩ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনের সর্বশেষ সেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্যানালিস্ট হিসেবে আলোচনা করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ। সেশনটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।
নাহিদ বলেন, আমাদের ৫৪ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান তার কবর রচনা করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু নির্বাচনের পর দেখলাম তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি, উচ্চকক্ষ লাগবে। কারণ, বাংলাদেশে যে কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে সংবিধান নিজের মতো সংশোধন করে নেয়। ফলে একটা ভারসাম্য দরকার। সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেন একটি গণভোটের ব্যবস্থা থাকে। আমরা বলেছি, যেন সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ না হয়, নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একক হাতে না থাকে।
সর্বদলের সম্মতিতে গ্রহণযোগ্যভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেন প্রতিষ্ঠা হয়, বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ যেন হয়। এগুলো দিয়েই যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে, তা নয়। তবে আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই।
নাহিদ আরও বলেন, আমরা সাংবিধানিক সংস্কারের কথা বলেছি। সংশোধনের মাধ্যমে এটা টেকসই হবে না। বিএনপি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চাইলে সেটি টেকসই হবে না, যে কোনো সময় এটা বাতিল হতে পারে। আমি সংসদে বলেছি, জিয়াউর রহমান এই ঐতিহাসিক ভুল করেছিলেন। ফলে বাহাত্তরের সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে আওয়ামী লীগের আদর্শ এবং রাজনীতি ফিরিয়ে আনার দরজা খোলা রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নোট অব ডিসেন্টে অনেক কথা এসেছে। এটি আপনারা যে কোনো সিদ্ধান্তে দেখতে পাবেন। সংসদে অনেক সিদ্ধান্তে আমাদের বিরোধিতা আছে। অনেকের ভিন্নমত আছে। তার এই ভিন্নমত লেখা হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত কিন্তু পাস হয়ে যায়। জুলাই সনদ যেদিন স্বাক্ষর হয়, সেদিন আলাদা করে নোট যোগ করা হয়েছে সবগুলোতে। যে দল ক্ষমতায় আসবে, তারা ইশতেহার অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়ন করবে। তাহলে তো আর সনদের কার্যকারিতা থাকে না। সে জায়গা থেকে গণভোট এসেছে।
নাহিদ বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র সংবিধানে যুক্ত করার প্রতিজ্ঞা দেওয়া আছে। এ বিষয়ে আমরা এখনো কথা বলতে শুনি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের লড়াই হোঁচট খেলে মানুষকে বারবার রাজপথে নেমে আসতে হয়। আমরা সেটা চাই না।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







