আবদুস সালাম
বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, জিয়াউর রহমান থাকবেন মানুষের হৃদয়ে

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ততদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। তাঁর কর্ম, আদর্শ ও অবদানের কারণেই তিনি আজও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হিসেবে মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) নয়াবাজার বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে বংশাল থানা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল, তবারক বিতরণ এবং দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, জিয়াউর রহমান কে ছিলেন, কেমন ছিলেন-তা দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানে। ৪৫ বছর আগে তিনি শাহাদাত বরণ করলেও তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে তিনি এখনও মানুষের মাঝে বেঁচে আছেন।
তিনি বলেন, স্বল্প সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেও জিয়াউর রহমান কৃষি, শিল্প, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিসহ রাষ্ট্র পরিচালনার প্রায় সব ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অবদান রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন একজন কর্মবীর ও সংস্কারক, যার মতো সংস্কার এ দেশে আর কেউ করতে পারেননি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে আবদুস সালাম বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছেন তারেক রহমান। তিনি গরিব, কৃষক ও নারীর উন্নয়নে কাজ করছেন এবং সাধারণ মানুষকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।
বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির জন্মই হয়েছে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। জনগণের সমর্থন নিয়েই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। তাই বিরোধীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তারেক রহমানকে কাজ করার সুযোগ দিন। জনগণই শেষ পর্যন্ত তাঁর কাজের মূল্যায়ন করবে।”
আবদুস সালাম অভিযোগ করেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। তবে বিএনপি জনগণের দল হিসেবে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির বহু নেতাকর্মী শহীদ, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই ত্যাগের ধারাবাহিকতায় আজ পরিবর্তনের পথ সুগম হয়েছে।
রাজধানীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঈদুল আজহার পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে নগরবাসীকে উন্নত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ে নাগরিক সমস্যার সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে জনগণ যদি আমাকে ভোট দেয়, তাহলে দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চেহারা পাল্টে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। তবে নগর উন্নয়নে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং কোথাও যেন দুই দিনের বেশি পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিএনপির কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দলের কোনো নেতাকর্মী যদি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা না করে স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হবে। জনগণের শান্তি ও কল্যাণে বিএনপি অতীতেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় দেশের উন্নয়ন ও জনগণের মুক্তি নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভিওডি বাংলা/জা







