স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনের সঙ্গে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় ছাড়াও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য নরওয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি জানান, নরওয়ে এখন প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তার বাইরে গিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করতে আগ্রহী।
এ প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ওষুধ শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, পাটজাত দ্রব্য এবং হস্তশিল্পের মতো খাতে নরওয়ের বাজারে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং আধুনিক প্যাকেজিং খাতে নরওয়ের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নরওয়ের আন্তর্জাতিক ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এ কারণে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) এবং নরফান্ডের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রসঙ্গেও আলোচনা হয় বৈঠকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল উদ্ভাবন কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নরওয়ের শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার অনুরোধ করেন।
আলোচনায় নরওয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানের বিষয়টিও উঠে আসে। উভয় পক্ষই মনে করেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য নরওয়ের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। তিনি নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
জবাবে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও নরওয়ে মানবাধিকার, শান্তি এবং টেকসই উন্নয়নের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তিনি আশ্বস্ত করেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নরওয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
ভিওডি বাংলা/জা







