• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

তারেক রহমানের সঙ্গে সন্তু লারমার আলোচনা চাচ্ছিলেন দীপেন দেওয়ান

রুদ্র রাসেল    ২ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পি.এম.
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান- সন্তু লারমা। ছবি: ভিওডি বাংলা

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগ ঘিরে নানান প্রশ্ন ঘুরছে চারদিকে। ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে আলোচনায় ছিল তার মন্ত্রীত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পরিচালনায় পাহাড়ের বাইরের কেউ প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পাওয়া, রাঙামাটি জেলা বিএনপির রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ, শান্তিচুক্তি  এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ ঘিরে দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করে থাকতে পারেন- দিনভর এমন আলোচনাই ছিল।  তবে সরকার-সংশ্লিষ্ট কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করে পদত্যাগের ‘আসল’ কারণ জানা যায়নি।  

তবে একটি গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি আন্তরিক ছিলেন। জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে সরকারের আলোচনারও পক্ষে ছিলেন তিনি। পাহাড়ের শান্তি রক্ষায় জেএসএস’র প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোচনা হোক, সেটাও চেয়েছিলেন। 

আরেকটি সূত্রের দাবি, তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদের পুনর্গঠনে মতভিন্নতা ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে দ্রুততার সঙ্গে পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সময়ক্ষেপণ করছিলেন। দীপেন নিজের মতো করে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন।  স্বজনদের কাউকে বসানোর চেষ্টা করছিলেন। 

তবে দীপেন দেওয়ানের একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, এই মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়। পার্বত্য এলাকার বাইরে থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ এই প্রথম। বিষয়টি নিয়ে পাহাড়িদের মধ্যে প্রশ্ন ছিল। তারা মনে করেন, এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরই প্রাপ্য। এসব নিয়ে দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে অস্বস্তিতে ছিলেন।  

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে দূরত্ব ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তুলে ধরছেন। তবে হেলাল উদ্দিন তা অস্বীকার করে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, ‘দীপেন চাচার সঙ্গে কোনো দূরত্ব নেই। আমাদের দুজনের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। আমার আব্বা (সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন) যখন জুডিশিয়ারিতে ছিলেন, তখন তিনি সহকর্মী ছিলেন।’ 

সরকার গঠনের ১০০ দিন পার হতেই একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। পদত্যাগপত্রে ‘শারীরিক অসুস্থতা’ উল্লেখ করা হলেও এই কারণে আড়ালে কি আরো একাধিক কারণ লুকিয়ে আছে? তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ না পেলেও নানা জল্পনা-কল্পনা আর ধারণাপ্রসূত উড়ো কথায় ছড়িয়ে পড়ছে বিষয়টি ঘিরে।  তার অনুসারীরা দাবি করছেন, তিনি সুস্থ এবং কোনো চাপে মন্ত্রীত্ব ছেড়েছেন।  তবে এ বিষয়ে মুখ খোলেননি দীপেন দেওয়ান।

সোমবার (১ জুন) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা গৃহীত হয়।  

পদত্যাগপত্রে দীপেন লিখেছেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে আমার বর্তমান পদ (মন্ত্রী) থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।’

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং পুনর্বহালের দাবিতে তার অনুসারী-সমর্থকেরা রাঙামাটি শহরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবি, চাপ প্রয়োগের কারণে মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দীপেন দেওয়ান শারীরিকভাবে অসুস্থ নন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের স্নাতকোত্তর দীপেন দেওয়ান জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০৫ সালে যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।  ২০১০ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হন। কিন্তু দলের নেতৃত্ব নিয়ে ‘পাহাড়ি’, ‘অপাহাড়ি’ দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ২০১৬ সালে দীপেনকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক করা হয়। এর পর থেকে জেলার রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙামাটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান। নির্বাচনে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হয়েছিলেন দীপেন দেওয়ান।  তার বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর সব মিলিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৮ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ২৪ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৩ জন। এর বাইরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা আছেন। নতুন করে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হবে বলে কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল।  এর মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। সরকার গঠনের পর এত কম সময়ের মধ্যে কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা দেশে বিরল।

ভিওডি বাংলা/আরআর/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
৬০ সিদ্ধান্তের ৩৭টি বাস্তবায়ন, ভুগিয়েছে জ্বালানি আর হাম
সরকারের ১০০ দিন ৬০ সিদ্ধান্তের ৩৭টি বাস্তবায়ন, ভুগিয়েছে জ্বালানি আর হাম
তারেক রহমানকে ঘিরে মব তৈরির ছক!
তারেক রহমানকে ঘিরে মব তৈরির ছক!
ঠান্ডা মাথার ধর্ষণ ও হত্যা, বিচার পেতে লাগে ১৮ বছর
দেশজুড়ে আলোচিত একটি মামলা ঠান্ডা মাথার ধর্ষণ ও হত্যা, বিচার পেতে লাগে ১৮ বছর