চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না—কারিনার স্মৃতি দেখিয়ে বাবার কথা

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের শোবিজ অঙ্গনে। পরিবার, সহকর্মী ও ভক্তদের চোখে এখন শুধুই অশ্রু আর না ফেরার বেদনা। আজ রোববার (১৭ মে) তার মরদেহ ভারতের চেন্নাই থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার কায়সার হামিদ।
মেয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কায়সার হামিদ। তিনি কারিনার রুমে রেখে যাওয়া শেষ স্মৃতিগুলো দেখিয়ে বলেন, “এটাই কারিনার রুম। এই ল্যাপটপটা কেউ ধরো না, আর এইটা হলো তার চুলের ক্লিপ। এই ক্লিপ চুলে বেঁধেই সে কাজ করতো।”
কাঁদতে কাঁদতে তিনি আরও জানান, মৃত্যুর আগে কারিনা তার ল্যাপটপ কাউকে স্পর্শ করতে নিষেধ করেছিলেন। বলেছিলেন, “আমি ফিরে এসে বাকি কাজ শেষ করবো, আমার কাজ পেন্ডিং আছে।” কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না।
কারিনার রুমে থাকা একটি কোলের বালিশে লেখা ছিল— ‘Born To Shine’। সেটি দেখিয়ে বাবা বলেন, “এই লেখাটার মানে হলো, সে শাইন করার জন্যই জন্মেছিল। শাইন করছে ঠিকই, কিন্তু খুব অল্প সময়ের জন্য। আমাদেরকে কাঁদিয়ে চলে গেল।”
জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা কায়সার। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হলেও পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকরা ফুসফুসের সংক্রমণের চিকিৎসা ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন কারিনা কায়সার হামিদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও ব্যতিক্রমী কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তিনি। তার এই অকাল বিদায়ে শোকাহত ভক্ত-অনুরাগীসহ পুরো শোবিজ অঙ্গন।
ভিওডি বাংলা/আ







