আস্থা ভোটে অনাস্থার ঝড়
থালাপতি বিজয়কে ভোট দিয়ে বিপদে ২৪ বিধায়ক, টিকবে তো সদস্যপদ?

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের সরকারের আস্থা ভোট। সরকারের পক্ষে ভোট দেওয়ার পর এআইএডিএমকের ২৪ বিধায়কের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটির নেতৃত্ব। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে—সত্যিই কি তারা সদস্যপদ হারাতে পারেন? আর পুরো প্রক্রিয়ায় স্পিকারের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
বুধবার (১৩ মে) তামিলনাড়ু বিধানসভায় অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে বিজয়ের সরকার ১৪৪ ভোট পেয়ে জয় পায়। বিপক্ষে পড়ে ২২ ভোট। এ সময় এআইএডিএমকের ২৪ বিধায়ক সরকারের পক্ষে ভোট দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর পরই দলীয় হুইপ অমান্যের অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন জমা দেয় এআইএডিএমকে নেতৃত্ব।
সংসদ বা বিধানসভায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভোটের আগে দলীয় অবস্থান জানিয়ে সদস্যদের যে নির্দেশ দেওয়া হয়, সেটিই হুইপ।
সাধারণত দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
তাহলে ২৪ বিধায়কের সদস্যপদ কি বাতিল হয়ে যাবে?
বিষয়টি এত সহজ নয়।
অভিযুক্ত বিধায়কদের দাবি, যে হুইপ জারি করা হয়েছে সেটিই আইনগতভাবে বৈধ নয়। তাদের বক্তব্য, নতুন নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক না ডেকেই দলীয় সাধারণ সম্পাদক সরাসরি হুইপ নিয়োগ করেছেন। তাই সেই নির্দেশ মানার বাধ্যবাধকতা ছিল না।
অন্যদিকে দলীয় নেতৃত্ব বলছে, হুইপ বৈধ ছিল এবং তা অমান্য করায় বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
স্পিকারের ভূমিকা
পুরো সংকটের কেন্দ্রেই রয়েছেন স্পিকার। কারণ, দলত্যাগবিরোধী আইনে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে শেষ সিদ্ধান্ত সাধারণত স্পিকারই নেন। তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনবেন, হুইপ বৈধ ছিল কি না তা যাচাই করবেন এবং এরপর সিদ্ধান্ত দেবেন।
এ কারণেই এখন বলা হচ্ছে—২৪ বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সুপ্রিম কোর্টের পুরোনো রায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মহারাষ্ট্রে শিবসেনা বিভক্তির মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, দলীয় বিভক্তির ঘটনায় কে এবং কীভাবে হুইপ নিয়োগ করেছেন, তা যাচাই করা স্পিকারের দায়িত্ব।
সেই রায়ে স্পিকারের একতরফা সিদ্ধান্তকে আদালত প্রশ্নবিদ্ধও করেছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আদালতে পৌঁছালে তামিলনাড়ুর রাজনীতি আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। একই সঙ্গে ২৪ আসনে সম্ভাব্য উপনির্বাচনের বিষয়টিও রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







