{# Both bootstrap.min.css (190KB) and style.css (129KB) async-loaded via preload + onload swap. Inline critical CSS above covers above-the-fold. #} {# Third-party scripts: GA / ShareThis / Cloudflare on idle. AdSense is special — show_ads_impl_fy2021.js was eating 2.1s CPU, so it loads ONLY when an ad slot is near the viewport. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নৃশংস খুন, নেপথ্যে নানা বিরোধ

রেজাউল করিম হীরা    ১০ মে ২০২৬, ০১:৩৭ এ.এম.
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নৃশংস খুন। ছবি: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে তৈরী

দেশজুড়ে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। পান থেকে চুন খসলেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
বেশির ভাগ ঘটনার নেপথ্যে হয় পারিবারিক বিরোধ, নয়তো সামাজিক দ্বন্দ্ব। অথবা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ।এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতা, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটছে এসব হত্যাকাণ্ড।

শনিবার (৯ মে) গাজীপুরে নারী ও তিন শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এদিন ময়মনসিংহে অপহরণের পর শিশুহত্যা, নরসিংদীতে নির্যাতনের মাধ্যমে শিশু হত্যা, চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ছয়জন। একই সময়ে মব সহিংসতায় প্রাণ গেছে ২২ জনের। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ২৯৪ জন নারী ও শিশু। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩৬ জন এবং মব সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন। একই সময়ে অন্তত নয়জন নারী ও শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল—এই তিন মাসে শুধু রাজধানীতেই ৫৭টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে প্রায় ৭৫০ থেকে ৭৭০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৫০টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। একই বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কিশোর গ্যাং সংঘর্ষ, জমিজমা বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অন্তত ৮৪০ জন নিহত হন। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসেও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে পরিকল্পিত হত্যা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ব্যক্তিগত বিরোধকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক আলোচিত হত্যাকাণ্ড: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আন্দালিব সাদমান রাফি (৯) নামে এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার টাকার লেনদেন নিয়ে শিশুটির বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। শনিবার অভিযুক্ত নূর মুহাম্মদ খোকনের বাড়ির স্যানিটারি ল্যাট্রিনের রিং স্ল্যাবের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে শারমিন আক্তার (৩০), তার তিন সন্তান—মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং রসুল মিয়া (২২)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়াকে সন্দেহভাজন হিসেবে খোঁজা হচ্ছে। তদন্তে কাজ করছে সিআইডি ও পিবিআই।

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে কোদালের আঘাতে মাহিনুর আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় হাসান রাজু নামে এক যুবককে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় ১১ বছর বয়সী এক শিশু। মাথায় গুলিবিদ্ধ শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তালাবদ্ধ ঘর থেকে বর্ষা আক্তার (২০) নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী পলাতক রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সহিংসতার ধরন বদলাচ্ছে; অনেক ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মানুষই হত্যার শিকার কিংবা অভিযুক্ত হচ্ছেন, যা সামাজিক অবক্ষয়ের গভীর সংকেত বহন করছে।
এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় কমে যাচ্ছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তিনি অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ-অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার বড় অংশ পারিবারিক ও সামাজিক সংঘাত থেকে সৃষ্টি হচ্ছে। পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিরোধ, সম্পর্কগত দ্বন্দ্ব এবং সামাজিক সহনশীলতার ঘাটতি সহিংসতার অন্যতম কারণ।

তার মতে, উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অনেক ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বা পরিচিতজন। এটি সামাজিক সম্পর্কের কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত বিচার ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই দুঃখজনক। পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা আগে থেকে প্রতিরোধ করা অনেক সময় কঠিন হলেও পুলিশ প্রতিটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কোস্টগার্ডে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক নজরদারি হেলিকপ্টার
কোস্টগার্ডে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক নজরদারি হেলিকপ্টার
র‍্যাব আহত হওয়া এলাকায় রাতভর চিরুনি অভিযান, বিপুল মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
র‍্যাব আহত হওয়া এলাকায় রাতভর চিরুনি অভিযান, বিপুল মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
‘মাদকসেবিদের’ আমেরিকার গল্প শোনাচ্ছে ডিবি
‘মাদকসেবিদের’ আমেরিকার গল্প শোনাচ্ছে ডিবি