ডিএসসিসি প্রশাসক
সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমেই তরুণ সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, তরুণ সমাজকে অবক্ষয়, মাদক ও অন্যায়ের পথ থেকে রক্ষা করতে হলে তাদের সংস্কৃতিমনা করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তরুণরা কখনো বিপথে যাবে না।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে সংশপ্তকের ৩ যুগ পূর্তি উৎসব উপলক্ষে আলোচনা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, যত বেশি সাংস্কৃতিক ও শিশু-কিশোর সংগঠন কার্যক্রম পরিচালনা করবে, তত বেশি আমরা যুব সমাজকে অবক্ষয়ের পথ থেকে রক্ষা করতে পারব। আজ বাস্তবতা হলো, যুব সমাজের একটি বড় অংশ নেশাগ্রস্ত হয়ে ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। আর তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়া মানে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
তিনি বলেন, একটি সংগঠন গড়ে তোলা সহজ হলেও সেটিকে দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে যেসব সংগঠন নিজেদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়, সেগুলো টিকিয়ে রাখতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।
তিনি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনার প্রশংসা করে বলেন, “সংশপ্তক দীর্ঘদিন ধরে খুব ভালোভাবেই বেঁচে আছে। তারা যুগের পর যুগ বেঁচে থাক এবং বাংলাদেশের শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়ে কাজ করে যাক। কারণ আগামী প্রজন্মই একদিন দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। নানা চড়াই-উতরাই ও বিভেদ অতিক্রম করে দেশ আজকের অবস্থানে এসেছে। নতুন প্রজন্মকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা শিক্ষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, বাংলা আমার মায়ের ভাষা—এটা আমরা সবাই বলি। কিন্তু আমরা যদি বাংলা ভাষাকে যথাযথভাবে ধারণ না করি, তাহলে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। বাংলা ভাষার যে সৌন্দর্য ও মহিমা ছিল, বিভিন্ন অপভাষা ও অপ্রয়োজনীয় আঞ্চলিকতার ব্যবহারে আমরা সেটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছি।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে নিজেদের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলা উচিত নয়। আমার পরিচয় আমার দেশ বাংলাদেশ, আমার ভাষা বাংলা, আমার সংস্কৃতি ও সাহিত্য। এগুলোকে সমৃদ্ধ করতে না পারলে আমাদের নিজস্ব পরিচয়ও হারিয়ে যাবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও শিল্পকলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। যে গান ভালোবাসে তাকে গানের সুযোগ, যে খেলাধুলা ভালোবাসে তাকে সেই পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। দেশের প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের বিকশিত করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি আরো বলেন, শুধু অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হলেই হবে না, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সাহিত্যেও বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ হতে হবে। আমরা এমন একটি জাতি, যারা ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছি, রক্ত দিয়েছি এবং সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। পৃথিবীতে এমন উদাহরণ খুব কম।”
মা-বাবাদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। সংস্কৃতিমনা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সন্তান গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নগর প্রশাসক হিসেবে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, আমরা যদি সবাই শপথ করি যে এই নগরকে বাসযোগ্য ও আবর্জনামুক্ত রাখব, রাস্তায় কোনো ময়লা ফেলব না এবং নিজের ঘরের মতো শহরকেও পরিষ্কার রাখব, তাহলেই একটি সুন্দর নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
ভিওডি বাংলা/এসআর







