• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সংসদকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চায় জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৭ মে ২০২৬, ০৫:২৫ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

সংসদীয় কার্যক্রম, রাজপথের আন্দোলন এবং ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংগঠিত করার কৌশল নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এজন্য শুধু সংসদীয় বিতর্ক, নোটিশ বা ওয়াকআউটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজপথেও কর্মসূচি জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি।

জামায়াতের একাধিক পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো ইস্যুকে সামনে রেখে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায় দলটি। একই সঙ্গে ধর্ষণ, খুন, শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের মতো বিষয়েও তারা রাজনৈতিক অবস্থান জোরালো করতে চায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি সরকার সংস্কার প্রশ্নে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে—এ বিষয়টি সংসদ ও রাজপথে সমানভাবে তুলে ধরতে চায় জামায়াত। অতীতের মতো শুধু সংসদ বর্জন নয়, বরং সংসদীয় আলোচনা, ওয়াকআউট এবং রাজপথের কর্মসূচি একসঙ্গে চালানোর কৌশল নিয়েছে দলটি।

জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনও আমাদের এজেন্ডায় রয়েছে। দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন। একই সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ যেন না হয়, সেটি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।”

গণভোটকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রসঙ্গে দলটির নেতারা মনে করেন, সংবিধান–সংশ্লিষ্ট ৪৮টি প্রস্তাবের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়লেও তা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়াকে সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে জামায়াত।

দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা, রাজনৈতিক কৌশল এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন চলছে। তাদের মতে, সংসদকে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভূমিকা রাখাই বিরোধী দলের মূল দায়িত্ব। ওয়াকআউটসহ বিভিন্ন প্রতিবাদমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি সে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে।

আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, “জামায়াতের লক্ষ্য সংসদকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা। প্রয়োজনে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও অবস্থান নেওয়া হবে।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতসহ ১১ দলীয় একটি জোট ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন বিভাগে সমাবেশ এবং শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১১ দলীয় জোটের বাইরে পৃথকভাবে সেমিনার, মতবিনিময় সভা ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও চালিয়ে যাবে দলগুলো। পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কার ও সংবিধান সংশ্লিষ্ট আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের।

দলটির নেতারা মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ ও জনজীবনের সংকট রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। এ কারণে এসব ইস্যুকে সামনে রেখে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছে তারা।

এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারকে যুক্ত করে কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সংস্কার ও গণভোট ইস্যুতে আদর্শগতভাবে একমত এমন কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।”

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অনুমোদন পাওয়া এই কাঠামো আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রকাশ্যে আনা হতে পারে।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে কাল : আলোচনায় উঠছে ৪৯৮ প্রস্তাব
ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে কাল : আলোচনায় উঠছে ৪৯৮ প্রস্তাব
বাস্তবতা এখনো জটিল, অনিশ্চয়তার অন্ত নেই
আজ মহান মে দিবস বাস্তবতা এখনো জটিল, অনিশ্চয়তার অন্ত নেই
মহান মে দিবস আজ
মহান মে দিবস আজ