• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

দেশের সীমান্তের মানুষগুলোর ফুড সেফটি নেই : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৩ মে ২০২৬, ০৭:৪৫ পি.এম.
ছবি : সংগৃহীত

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আমি সীমান্তের প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে দেখলাম সেই মানুষগুলোর ফুড সেফটি (খাদ্য নিরাপত্তা) নেই। তাদের কৃষি ব্যবস্থার কোনো নিরাপত্তা নেই। সেখানে বড় বড় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কৃষক নিজের জমিতে গিয়ে চাষাবাদ করতে পারে না, ধান উৎপাদন করতে পারে না। বাংলাদেশের ভূমি হওয়া সত্ত্বেও সেখানে উৎপাদন করতে না পেরে কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে।

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কৃষি সেল আয়োজিত ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত ও অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের হাহাকার : সংকট ও উত্তরণের পথ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমি গতকাল সীমান্তে গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার পথে পুলিশ আমাকে ঢুকতে দিচ্ছিল না। আমি তো বাংলাদেশের ভেতরেই যেতে চাই। বাংলাদেশের ভেতরে যদি আমি যেতে না পারি, তবে এটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি লজ্জার বিষয়। তারা ভয় পায় সীমান্তে গেলে কোনো উত্তেজনার সৃষ্টি হবে কি না। সীমান্তে আমি প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে দেখলাম সেই মানুষগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নেই। তাদের কৃষি ব্যবস্থার কোনো নিরাপত্তা নেই। সীমান্তে যে বড় বড় হত্যাকাণ্ডগুলো হয়ে থাকে, সেখানে দেখবেন কৃষকের জমিতে সে গিয়ে চাষ করতে পারে না। বাংলাদেশের ভূমি হওয়া সত্ত্বেও কৃষক সেখানে উৎপাদনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গতকালের একটি ঘটনা দেখে আমরা আশান্বিত হয়েছি। 

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, কৃষি ব্যবস্থার কথা চিন্তা করে মওলানা ভাসানী তার দলের একটি মার্কা রেখেছিলেন। সেই মার্কা চুরি হয়ে গিয়েছে। মওলানা ভাসানী এখন শুধু নামেই আছেন। মওলানা ভাসানী বাংলাদেশে কৃষক-নির্ভর রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। যদি মওলানা ভাসানীর সেই মার্কাটি তার কাছে থাকত, তবে আজকে ধান মার্কা পানির নিচে তলিয়ে যেত না।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশের হাওরের ধান কোথায় চলে গেছে? সব পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে। অবশ্যই ধান মার্কা ক্ষমতায় আছে, কিন্তু বাস্তব যে ধান, তা এখন পানির নিচে। এই ধান আমাদের রক্ষা করার কথা ছিল। সেই ধানের মার্কা বগুড়া থেকে ছেড়ে গুলশানে চলে এসেছে। এখন প্রায়োগিক অর্থে এই ধান কেন্দ্রিক যে সিন্ডিকেট ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী রয়েছে, তাদেরই তোষণ ও পুনর্বাসন করা হচ্ছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এক বিএসএফ সদস্য বাংলাদেশে গরু চুরি করতে এসেছে, তাকে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে ধাওয়া দিয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ভারতীয় শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে মোদির মতো চোর, বাটপাররা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার চুরি করতে আসে, তবে ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের দৌড়ানি দেবে; যাতে দক্ষিণ এশিয়া থেকে তাদের আধিপত্য নিশ্চিহ্ন হয়।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র স্বাধীনভাবে টিকে আছে, এটি পৃথিবীর অন্যতম এক আশ্চর্যের বিষয়। দক্ষিণ এশীয় বাঙালি মুসলমান এবং আপামর বাঙালিরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিল এবং বিশ্বের বুকে তারা টিকে আছে। ভারত সাম্রাজ্যবাদের সামনেও তারা টিকে আছে। আমরা তাদের বলতে চাই, পৃথিবী যতদিন থাকবে, কেয়ামত পর্যন্ত আমরা টিকে থাকব। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ দরকার হলে না খেয়ে থাকবে, কিন্তু তোমাদের সামনে কখনোই মাথা নত করবে না। এটি আমরা অতীতেও বলেছি, ভবিষ্যতেও বলব। আশা করি, সরকার বাংলাদেশের মানুষের জীবনের এই চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা বুঝে রাজনীতির পথে এগোবে। তাদের যে মার্কা হাওরের পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে, সেই মার্কা তারা উদ্ধার করে কৃষকদের মুক্তি দিবে।

ভিওডি বাংলা/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
২২৭৬ জনকে হত্যা ও গুমের তদন্ত চাইল বিএনপি
ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ ২২৭৬ জনকে হত্যা ও গুমের তদন্ত চাইল বিএনপি
এনসিপির ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন
এনসিপির ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন
‘জুলাই সনদ’ নিজেদের মতো করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে সরকার
‘জুলাই সনদ’ নিজেদের মতো করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে সরকার