সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি : মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তরুণ ও নারীদের প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সমন্বিত একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায় সরকার।
বুধবার আগারগাঁওয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ: এনজিওর ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পরিচিতি ও গৌরব তুলে ধরতে এনজিওগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। অনেক এনজিও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। ছোট, বড় ও মাঝারি—সব ধরনের এনজিওর সম্মিলিত লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এনজিওগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করেন বলেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধিভুক্ত এনজিও বিষয়ক কার্যক্রমে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে এনজিওগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের নির্দেশনা দিয়েছেন। নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে অংশীজনদের মতামত সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার মূলত নীতি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, নারীর ক্ষমতায়ন, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন কর্মসূচি, মসজিদের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী এবং কৃষকদের জন্য ঋণ সহায়তার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাইলট প্রকল্প শুরু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে সরকার একা কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত, এনজিও ও অন্যান্য অংশীজনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে এনজিওগুলোর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, এনজিওগুলোর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সংযোগের ঘাটতি রয়েছে। এই ব্যবধান কমাতে দক্ষতা ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষতাভিত্তিক কার্যক্রম বাড়ানো এবং শিল্প-অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে চায়।
তিনি বলেন, দেশে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে সবাইকে অনার্স বা মাস্টার্স করতেই হবে—এমন ধারণা থেকে বের হয়ে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও কর্মসংস্থান না হওয়াকে তিনি ‘ভুল বিনিয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মাহদী আমিন বলেন, একটি ডিগ্রি বা সনদের উদ্দেশ্য শুধু পুথিগত বিদ্যা নয়, এর ব্যবহারিক প্রয়োগও থাকতে হবে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য একজন সুনাগরিক গড়ে তোলা। সততা, যোগ্যতা, মেধা ও সৃজনশীলতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে। বিদেশে বৃক্ষরোপণ কাজে বাংলাদেশি শ্রমিকরা গেলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পান না। অল্প সময়ের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচিত সরকারের তিন মাস পূর্ণ হয়েছে এবং জনগণের বড় প্রত্যাশা হচ্ছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে যৌক্তিক সমালোচনার সুযোগ থাকবে এবং দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সবাই মিলে কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও দেশের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় ও যৌথভাবে কাজের সুযোগ খুঁজে দেখতে চায় বলেও জানান তিনি।
ভিওডি বাংলা/এসআর







