রাজধানীকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ করার উদ্যোগ

রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের উদ্যোগে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল প্রতীকী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে রাজধানীর নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বলা হয়, আগামীকাল সকাল ১০টায় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সদস্যরা এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেবেন।
এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আজ দেশের প্রয়োজনে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দায়িত্বশীলতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, “ঢাকা শহরকে সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত করা আমাদের কারও জন্যই গৌরবের বিষয় নয়। এটি একা সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, বরং এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।”
নিজের ঘরবাড়ির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মানুষ যেমন নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখে, তেমনি ঢাকা শহরকেও নিজের শহর মনে করে পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। দায়িত্ববোধ জাগ্রত হলে শহর আর অপরিচ্ছন্ন থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিদেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উন্নত দেশে রাস্তায় আবর্জনা ফেলা হয় না, এমনকি সিগারেটের অবশিষ্ট অংশও যথাস্থানে ফেলা হয়। এই দায়িত্ববোধ দেশের মানুষদের মধ্যেও গড়ে তুলতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আবদুস সালাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের এই কর্মসূচি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি এ কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, এটি শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।
তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রতি মাসের প্রথম শনিবার নগর পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ উদ্যোগ সফল করতে নাগরিকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সব শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আগামী দিনে গাছ রোপণ কর্মসূচিও নেওয়া হবে, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণ থাকবে বলে তিনি জানান।
ঈদুল আজহার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদের দিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে নগরীর বর্জ্য পরিষ্কারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোরবানির বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, বড় চটের ব্যাগ সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সকল সামাজিক সংগঠনকে এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
ভিওডি বাংলা/এসআর







