• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তৃণমূল পুনর্গঠনে মাঠে নামছেন তারেক রহমান

আহসান হাবিব    ৭ মে ২০২৬, ০৫:২৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

সরকার পরিচালনায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের ব্যস্ততা, তৃণমূলে সমন্বয়হীনতা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি—সব মিলিয়ে সাংগঠনিক চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। স্থানীয় পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং এবং কিছু নেতাকর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

এমন পরিস্থিতিতে দলীয় শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের সমন্বয় জোরদার এবং চেইন অব কমান্ড কার্যকর করতে মাঠে নামছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ লক্ষ্যেই আগামী ৯ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির একটি বড় সাংগঠনিক বৈঠক।

বৈঠকে জেলা পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

দলীয় সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলার অবনতি, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং তৃণমূল পর্যায়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়গুলো নিয়ে কেন্দ্র উদ্বিগ্ন। এ কারণে সরাসরি মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বসে দিক-নির্দেশনা দেবেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর বার্তাও আসতে পারে এই বৈঠক থেকে।

দলীয় সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম বড় তৃণমূলভিত্তিক সাংগঠনিক বৈঠক। সেখানে দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক দুর্বলতা, স্থানীয় বিরোধ এবং চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হতে পারে।

বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, নির্বাচনের পর মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হিসেবে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা দায়িত্ব নেওয়ায় দলীয় কার্যক্রমে কার্যত এক ধরনের নেতৃত্ব-শূন্যতা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেখা দিয়েছে ধীরগতি, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও।

দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, “সরকার পরিচালনার চাপের কারণে সাংগঠনিক তদারকি আগের মতো হচ্ছে না। এই জায়গাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ৮২টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক দুর্বলতা, জনঅসন্তোষ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দল-সরকার সম্পর্ক নিয়ে মাঠপর্যায়ের মতামতও জানতে চাওয়া হতে পারে।

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ ভিওডি বাংলাকে বলেন, “দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের ডেকেছেন। হয়তো তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেবেন। নির্বাচনের পর সেভাবে আমাদের কোনো মিটিং হয়নি। দলের চেয়ারম্যান যে দিক-নির্দেশনা দেন, আমরা সে অনুযায়ী কাজ করি। নতুন কোনো দিক-নির্দেশনা দিলে আমরা সেভাবেই কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা হলো তৃণমূল পর্যায়ে দল আরও শক্তিশালী হবে। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করব। বিশেষ করে যারা দুঃসময়ে দলের হাল ধরেছে, তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।”

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “আমরা সব জেলা ইউনিটের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের পরিকল্পনা করছি। সেখানে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে কিছু নেতাকর্মীর আচরণ। তাঁদের আশঙ্কা, স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, কোন্দল বা অশোভন কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারও সমালোচনার মুখে পড়তে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, “জনগণের চোখে সরকার ও দল আলাদা নয়। কোনো নেতাকর্মীর খারাপ আচরণ শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরও প্রভাব ফেলে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার ইতিবাচকভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছু কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”

দলীয় সূত্র বলছে, সরকারের বাইরে থাকা জ্যেষ্ঠ নেতাদের এখন সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যাঁরা মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হননি, তাঁদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন তদারকি এবং তৃণমূল কার্যক্রম শক্তিশালী করার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

একই সঙ্গে বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে বিএনপি। কাউন্সিলের আগে তৃণমূল ইউনিট পুনর্গঠন, কমিটি হালনাগাদ এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন কমানোর কাজ এগিয়ে নিতে চায় দলটি।

বিএনপি সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল-এ। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা সম্ভব হয়নি বলে দাবি দলীয় নেতাদের।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, কৃষক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দল, জাসাস ও মৎস্যজীবী দল-এর বেশির ভাগ কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ।

দলটির নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য, জাতীয় কাউন্সিলের আগে সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কাজ শেষ করতে না পারলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে।

ভিওডি /এএইচ/জা/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই
শপথ নিলেন এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম
শপথ নিলেন এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম
আমি আমার পূর্বের বক্তব্য সরিয়ে নিলাম: মামুনুল হক
আমি আমার পূর্বের বক্তব্য সরিয়ে নিলাম: মামুনুল হক