• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বিজেপির উত্থান, তৃণমূলের ধাক্কা

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে বড় আশঙ্কা দেখছে না বিএনপি

আহসান হাবিব    ৫ মে ২০২৬, ১২:২২ এ.এম.
ছবি: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে তৈরী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর উত্থানকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, এই পরিবর্তনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিকতার কারণে সম্পর্ক মোটের উপর স্থিতিশীল থাকবে বলেই তাঁদের মত।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আলম খান হিরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য জয় বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না।

তিনি বলেন, “বিজেপি যদি জেতে, আমাদের জন্য খারাপ হবে না। কারণ তারা কেন্দ্রীয় সরকারে আছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে।”

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান করতে পারেনি বলে তিনি বিভিন্ন সময় বলেছেন। তার সেই বাধা দূর হয়েছে, এখন কেন্দ্রে ও রাজ্য দুই জায়গায় একই সরকার, তাই এটি সফল হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “সম্পর্কের অবনতি হওয়ার কোনো কারণ তো দেখি না। সম্পর্কটা হচ্ছে পারস্পরিক। ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, যদি সম্পর্ক এককেন্দ্রিক হয়, অর্থাৎ খবরদারির ভিত্তিতে না হয়, তাহলে সম্পর্ক অবনতির প্রশ্নই ওঠে না।”

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য ক্ষমতায় আসা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্যের সময় হয়নি।

তিনি বলেন, “ভারতে এখন বিজেপি ক্ষমতায় আছে। পশ্চিমবঙ্গেও যদি তারা ক্ষমতায় আসে, তাহলে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কথা না। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন ভালো দিকেই যাচ্ছে।” তবে তিনি সতর্ক করেন, বিষয়টি সময়ই স্পষ্ট করবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি রাজ্য এবং এটি মূলত আঞ্চলিক নির্বাচন।

তিনি বলেন, “একটি রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারিত হয় না। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় আছে বলেই আমরা দেখি।”

তিনি আরও বলেন, তিস্তা চুক্তির মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুতে ভবিষ্যতে অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নির্ধারণ না করলেও সীমান্ত বাণিজ্য, পানি বণ্টন ও আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মূল সম্পর্ক নির্ভর করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত অবস্থানের ওপর।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্য বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুল বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এই পরিবর্তন দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ফল।

তিনি বলেন, “বিগত ৫ দশক ধরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দল কখনোই পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন না থাকার বিপরীতে এই প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যে আলাদা শাসন থাকায় পশ্চিমবঙ্গের জনগণ অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছিল। তরুণ প্রজন্ম দেখতে পেয়েছে কিভাবে সরকারি দল দেশের অন্যান্য রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। মূলত দীর্ঘদিনের বাম শাসনের অবসানের পর মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিতে আশানুরূপ উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে এই অঞ্চলের মানুষ।”

ভিওডি বাংলা/এএইচ/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছাত্রদলের কমিটিতে নতুনত্ব, যুক্ত হলেন মোশন ডিজাইনার
ছাত্রদলের কমিটিতে নতুনত্ব, যুক্ত হলেন মোশন ডিজাইনার
পিন্টু ততদিন বেঁচে থাকবেন, যতদিন বিএনপি ও বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে: আবদুস সালাম
পিন্টু ততদিন বেঁচে থাকবেন, যতদিন বিএনপি ও বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে: আবদুস সালাম
সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে হবে
জাতীয় নাগরিক পার্টি সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে, সনদ বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে হবে