কাদা ছোড়াছুড়ি-ভাঙচুর: নির্বাচন ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক সহিংসতা

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়ালসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি, ভাঙচুরসহ একাধিক সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার এসব ঘটনার জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কামারহাটি আসনের অটো ইউনিয়নে অটোরিকশা ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। খরদহ আসনে বিজেপির জয়েয় পরই তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকটি পার্টি অফিসে ভাঙচুর করা হয়।
এছাড়া ব্যারাকপুরের গণনা কেন্দ্রে নোয়াপাড়ার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তৃণাঙ্ক ভট্টাচার্যের ওপর হামলা হয়। তাকে গণনা কেন্দ্রের ভেতরেই মারধর করা হয়। ব্যারাকপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজিত প্রার্থী চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তীকে দেখে চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয়। গণনা কেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে কাদামাটি ছোড়া হয়।
জগদ্দল কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সোমনাথ শ্যামের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ও জগদ্দলে তৃণমূলের বেশ কয়েকটি পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ভাঙ্গরে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীর দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মুর্শিদাবাদের হামলার শিকার হয়েছেন সিপিআইএমের একজন পোলিং এজেন্ট।
বর্ধমানের (জামুরিয়া-চুরুলিয়া) জামুরিয়া বিধানসভার চুরুলিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস-এর দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে। পাশাপাশি কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে।
বাঁকুড়ার কোতুলপুর বিধানসভার খিরি গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় দখল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। গণনা কেন্দ্রের মধ্যেই তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ-এর গণনা কেন্দ্রে।
এছাড়া বরানগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠেছে। জামালপুরে শাসক শিবিরের কার্যালয়ে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে।
এর আগে কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের সামনে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সাখাওয়াতের সামনে তৃণমূলের কর্মীরা অবস্থান নিয়েছিলেন। এ সময় সেখানে সুব্রত বকশিও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই এজেসি বোস রোড ধরে বিজেপি সমর্থকরা আসতে শুরু করেন। তারা পুলিশের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান। এ সময় দলটির কর্মী-সমর্থকরা চেয়ার ভাঙচুর করেন।
ভিওডি বাংলা/এফএ







