গয়েশ্বর চন্দ্র
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয় না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনের দাবির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই প্রশ্ন তুলেন।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে হবে এটা জনগনের দাবি করতে হবে কেনো? যদি হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) নির্বাহী ক্ষমতা বলে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে তাহলে আপনি (অন্তবর্তীকালীন সরকার) এই নাটকবাজী করে জনগণ চায় কেনো? কি প্রয়োজন? কি বুঝাতে চান?... এটা আমাদেরকে বুঝতে হবে।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম তো আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করছে… তারা তো একটা নিষিদ্ধ দল নাকি। আওয়ামী লীগ করছে তো… ন্যায়-অন্যায় তো পরের কথা। ওই জামায়াতে ইসলাম তো এখনো নিবন্ধন ফেরত পায়নি। কিন্তু সরকার(অন্তবর্তীকালীন সরকার) খুব গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামকে… ওর নিবন্ধনের দরকার নাই।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে একমত বা দ্বিমত পোষন করছি না। আমি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকেই বলছি, কখনো কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করণের মধ্যে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হয় না।সমাধান মানসিকতার। বিগত ফ্যাসিবাদীরা যেভাবে দেশ চালাইছে… আপনি যদি একটা ন্যায় ভিত্তিক সমাজ রাষ্ট্র বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে পারেন, আইনের শাসনটাকে বলব করতে পারেন তাহলে কোন দল কখন নিষিদ্ধ হবে সেটা জনগনের মাধ্যমে দেখা যাবে।’
জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে ‘তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতিবন্ধকতা দুরীকরণ ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার দাবিতে এই আলোচনা সভা হয়।
‘আবদুল হামিদ কিভাবে গেলেন’
গয়েশ্বর বলেন, ‘আবদুল হামিদ চলে গেলেন.. উনি লুকিয়ে যাবে কেমনে? আবদুল হামিদ লোকটা যেমনই হোক …রাষ্ট্রের দুই বারের প্রেসিডেন্ট। কোন সংস্থা জানে না তিনি দেশে আছেন, কোন সংস্থা জানে না তিনি বিমানের টিকেট কাটছেন, কোন সংস্থা জানে না তার ফ্লাইট কয়টায়? আমরা কিন্তু ঢাকার বাইরে যেতে পারি না… সব তটস্থ হয়ে যায়। উনি (আবদুল হামিদ) ভিআইপি রুমে গেলেন। আমরা গেলে বলে যে, স্যার একটু বসেন… মানে উপরে একটু যোগাযোগ করতে হবে।’
১/১১ এর সময়ে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেনম ‘আজকে এই সরকারের পেছনে কে কলকাঠি নাড়ে? ওই ১/১১ যারা সৃষ্টি করেছে তারা এই সরকারকে নাচাচ্ছে। আপনারা সবাই নিজে নিজে একটু বিশ্লেষন করবেন, নিজে নিজকে জিজ্ঞাসা করবেন উত্তরটা নিজেই খুঁজে পাবেন।’
‘সরকারকে বলতে হবে তারেকের দেশে ফিরতে বাধা নাই’
গয়েশ্বর বলেন. ‘এখন সরকারের কাছ থেকে আমরা জানতে চাই, তারেক রহমানের দেশে ফেরার পেছনে কোনো বাধা নাই। সরকার প্রধানের কাছে… আপনি স্পষ্টভাষায় বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নাই। সেকেন্ডারি নিরাপত্তর বিষয়টি… সেটা দেখা যাবে আল্লাহ কারে কখনো মারে, কখন মারে…। আমি মনে করি, নিরাপত্তাজনিত কারণটা কোনো কারণ না। যে অজ্ঞাত কারণটা আমাদের প্রশ্নের জবাব মিলছে না সেই অজ্ঞাত কারণটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও সংস্কারকে আপনারা(সরকার) মুখোমুখি করেছেন। গণতন্ত্রের শত্রু সংস্কার না আর সংস্কারের শত্রু গণতন্ত্র না। বরং একটা আরেকটা পরিপূরক। আগে গণতন্ত্র আসলে সংস্কারগুলো করতে সুবিধা হবে। কারণ যেদিন জনগনের ভোটে যে সরকারটা আসবে তারা ক্রমান্বয়ে সংস্কারগুলো সম্পন্ন করতে পারবে অর্থাৎ আজকের সংবিধানে যেসব জনবিরোধী ক্লজ আছে সেগুলো তারা বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারবে। তাহলে গণতন্ত্র পূর্ব শর্ত সকল সংস্কার্ সম্পন্ন করার জন্য।’
১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ১২ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
ভিওডি বাংলা/এম/এমএইচ






