ভারত সিরিজ ঘিরে আশাবাদী মিরাজ, সম্পর্ক স্বাভাবিকে তৎপর বিসিবি
আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের। মূলত গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে সিরিজটি এক বছর পিছিয়ে যায়। একই কারণে পুরুষ ও নারী উভয় দলের সফরও স্থগিত হয়েছিল।
এবারের সিরিজকে তাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্রিকেটীয় সম্পর্ককে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) উভয় পর্যায়েই উদ্যোগ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ভারতীয় ক্রীড়া বিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম রেভস্পোর্টজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারতের বিপক্ষে সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘ভারত খুবই শক্তিশালী দল। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, সেটা আমরা জানি। তবে নিজেদের কন্ডিশনে ভালো ক্রিকেট খেলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা দারুণ একটি লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছি।’
২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও সেই প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে ওঠে বলে আলোচনা তৈরি হয়।
পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও অংশ নেয়নি। ফলে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। সে সময় সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ছিল না বিসিবির। বর্তমানে সেই তিক্ততা কাটিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।
বিসিবির প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ভারতীয় দল ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসবে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১, ৩ ও ৬ অক্টোবর এবং তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ হবে ৯, ১২ ও ১৩ অক্টোবর। ওয়ানডে ম্যাচগুলো ঢাকায় এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো চট্টগ্রামে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। (মূল কপিতে মাসের সঙ্গে তারিখের অসঙ্গতি ছিল। ২৮ সেপ্টেম্বর আগমনের পর ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর ম্যাচ হওয়া সম্ভব নয়। তাই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী অক্টোবর উল্লেখ করা হয়েছে।)
ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন জানিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমরা এই সিরিজ নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। ভারত বাংলাদেশে এলে সেটা আমাদের দেশের জন্য বড় একটি উপলক্ষ হবে, কারণ অনেক দিন পর তাদের বিপক্ষে খেলব।’
বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বিসিসিআই প্রধান মিঠুন মানহাসের সুসম্পর্ক থাকলেও বাংলাদেশ সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ভারতীয় বোর্ডকে নিজ দেশের সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
ক্রিকেট অর্থনীতির দিক থেকেও ভারত সিরিজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। স্পন্সরশিপ, টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব ও বাণিজ্যিক আয়ের কারণে ভারতকে নিয়ে একটি সিরিজ থেকে আয়োজক বোর্ড উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেয়ে থাকে। সে কারণে এ বছরের পুরুষ ও নারী দুই দলের সিরিজই বিসিবির জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
এদিকে আগামী বছরের এশিয়া কাপে ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও বিসিবি আগ্রহী। কারণ আসন্ন আসরের স্বত্ব রয়েছে বাংলাদেশের হাতে।
ভিওডি বাংলা/এমএস









মন্তব্য