কমনওয়েলথ গেমস
স্বর্ণ হারিয়ে ভেঙে পড়লেন তিনবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন
কমনওয়েলথ গেমসের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ফাইনালে দীর্ঘদিনের আধিপত্য ধরে রাখতে পারলেন না ব্রিটিশ তারকা সাঁতারু অ্যাডাম র্যামসে-পিটি। স্বর্ণপদকের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নামলেও শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তিনবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নকে। তবে পদকজয়ের পর গর্ভবতী স্ত্রী হলি র্যামসের সঙ্গে তাঁর আবেগঘন মুহূর্তই হয়ে ওঠে দিনের সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য।
শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার স্যাম উইলিয়ামসন ৫৯.১৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণ জেতেন। জার্সির ১৮ বছর বয়সী ফিলিপ নোভাকি ৫৯.৩৪ সেকেন্ডে রৌপ্য এবং অ্যাডাম র্যামসে-পিটি ৫৯.৬৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। নোভাকি দীর্ঘদিন ধরেই পিটিকে নিজের আদর্শ হিসেবে দেখে আসছেন।
পদক বিতরণ শেষে গ্যালারিতে থাকা স্ত্রী হলি র্যামসের কাছে গিয়ে তাঁর গর্ভের সন্তানের ওপর ভালোবাসার চুম্বন এঁকে দেন অ্যাডাম। পরে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
প্রতিযোগিতা শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের হতাশা লুকাতে পারেননি ৩১ বছর বয়সী এই সাঁতারু। তিনি বলেন, "আমি কখনও আবেগ প্রকাশ করতে ভয় পাই না। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আবেগ মানুষকে আরও শক্তিশালী করে— একজন ভালো মানুষ, ভালো বাবা ও ভালো স্বামী হতে সাহায্য করে।"
তিনি আরও বলেন, "এই প্রতিযোগিতার জন্য আমি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছি। এমন ফল আমাকে কষ্ট দিচ্ছে, কারণ আমি জানি আমি এর চেয়ে ভালো করতে পারি। এখনও বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না।"
অ্যাডাম বলেন, "প্রতিদিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন, পরিবারকে সময় না দেওয়া—এসবের নিশ্চয়ই একটা মূল্য আছে। আমি উৎকর্ষের জন্যই লড়াই করি। কিন্তু আজ আমি নিজের সেই মানে পৌঁছাতে পারিনি।"
তবে হতাশার মাঝেও তিনি হাল ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি।
"হয়তো এটা শুধু একটা খারাপ দিন ছিল। হয়তো দুই বছর বড় আসরের বাইরে থাকার প্রভাব পড়েছে। সামনে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। আমি লড়াই করতে ভালোবাসি। আজ হেরেছি, কিন্তু এখানেই শেষ নয়,"— বলেন তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন অ্যাডাম। সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সমালোচনা তাঁকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করেছে বলেও জানান।
তিনি বলেন, "গত কয়েক মাসে আমাকে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। অনলাইনে মানুষ যা-ই বলুক, এখন আর সেগুলোকে গুরুত্ব দিতে চাই না। যথেষ্ট হয়েছে। এটা শুধু খেলাধুলার বিষয় নয়, মানুষের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়।"
এরপরই স্ত্রী হলির প্রসঙ্গে আবেগঘন মন্তব্য করেন তিনি।
"আমার স্ত্রী সব সময় আমার জন্য গর্বিত থাকবে। একজন বাবা হিসেবে ঘরে স্বর্ণপদক নিয়ে ফেরা জরুরি নয়, জরুরি হলো নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসা। সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,"— বলেন অ্যাডাম।
প্রতিযোগিতার আগে থেকেই গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন হলি র্যামসে। বিখ্যাত টেলিভিশন শেফ গর্ডন র্যামসের ২৬ বছর বয়সী মেয়ে হলি সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁদের ঘরে কন্যাসন্তান আসছে।
কালো টি-শার্ট ও জাম্পার পরা হলির বেবি বাম্প স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। পুরো প্রতিযোগিতাজুড়ে তিনি স্বামীকে উৎসাহ দেন। ফাইনাল শেষে পদক না জিতলেও স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে সান্ত্বনা দেন এবং দুজনের ভালোবাসার মুহূর্ত দর্শকদের নজর কাড়ে।
এবারের কমনওয়েলথ গেমসে প্রথমবারের মতো নিজের সাঁতারের ক্যাপে "র্যামসে-পিটি" নাম ব্যবহার করছেন অ্যাডাম। গত ডিসেম্বরে হলিকে বিয়ে করার পর তিনি নিজের পদবির সঙ্গে স্ত্রীর পারিবারিক নাম যুক্ত করেন।
তিনবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন অ্যাডাম এটিকে নিজের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। ২০২৩ সালে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণে কয়েকটি প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে রৌপ্য জিতে তিনি আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পান।
২০১৪ সালে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রথম আন্তর্জাতিক স্বর্ণ জয়ের পর প্রায় আট বছর ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন অ্যাডাম। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে।
তবুও তার বিশ্বাস, সেরা সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সামনে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি চালিয়ে যাবেন তিনি।
ভিওডি বাংলা/এফএ









মন্তব্য