দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলেও দীর্ঘদিন চাকরি পাননি শ্যামনগরের তরুণী শারমিন আক্তার। অবশেষে তার কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (২৬ জুলাই) সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে চাকরির আবেদন জানান শারমিন। এ সময় তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা এবং দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার বিষয়টি মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
শারমিনের কথা শোনার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, "আমি তোমাকে একটা জব দিয়ে দিচ্ছি। এক সপ্তাহের মধ্যে সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১ আগস্ট থেকে যোগদান করবে।"
মন্ত্রীর এ ঘোষণায় আবেগাপ্লুত হয়ে শারমিন তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
পরে শারমিন আক্তার বলেন, তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। বিশেষভাবে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিবের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান, যিনি শুরু থেকেই তাকে সহযোগিতা করেছেন।
জানা গেছে, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালী গ্রামের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী শারমিন আক্তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পরও দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, কয়েক মাস আগে শারমিন সহায়তার জন্য জেলা পরিষদে এসেছিলেন। সে সময় তাকে ২০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সংগ্রামের কথা জেনে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার এবং চাকরির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও শারমিনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা অনুপ্রেরণাদায়ক। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তার এ অর্জন সত্যিই প্রশংসনীয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আন্তরিক উদ্যোগে তার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় তিনি মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ভিওডি বাংলা/এমএস









মন্তব্য