আ’লীগ আমলে বাড়িছাড়া ছাত্রদল নেতা জীবিকার জন্য চালান রিকশা

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার এক সময়ের সক্রিয় ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসানের জীবন এখন চরম বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে তিনি ফেনী শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন এবং জীবিকার জন্য চালাচ্ছেন অটোরিকশা।
দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান বর্তমানে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মেহেদী হাসান জানান, প্রায় আট-নয় বছর আগে বসুরহাট মাদরাসায় পড়াশোনার সময় থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম মানিকের অনুসারী হিসেবে এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
তার দাবি অনুযায়ী, বিগত সময়ের সরকারবিরোধী আন্দোলনগুলোতেও তিনি সরাসরি অংশ নেন।
মেহেদীর অভিযোগ, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বোনের বিয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পারিবারিক বাড়ি সংস্কারের কাজ শুরু করলে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এতে বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার কিছুদিন পর ১ ফেব্রুয়ারি তার বাবা আবুল কাশেম বাড়িতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারটি তখন এলাকা ছেড়ে ফেনী শহরে আশ্রয় নেয়।
বাড়ি ছাড়ার পর প্রথমদিকে রেলগেট এলাকায় অনিশ্চিত অবস্থায় দিন কাটাতে হয় পরিবারটিকে। পরে বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় থেকে টিকে থাকার চেষ্টা শুরু করেন তারা।
বর্তমানে মেহেদী অটোরিকশা চালিয়ে দৈনন্দিন খরচ চালাচ্ছেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পরও এখনো নিজ এলাকায় ফিরতে পারেননি।
মেহেদীর পরিবারে বাবা-মা, তিন ভাই ও এক বোন রয়েছেন। তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ভাই চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। বাবা আবুল কাশেম ফেনী শহরে ভ্যানে সবজি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।
মেহেদীর দাবি, তাদের পরিবার প্রায় তিন শতাংশ জমির মালিক ছিল, যা থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও পাল্টা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পারিবারিক জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই মূলত এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারিবারিক সম্পর্ক ও জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল।
ঘটনার পর আবুল কাশেম বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সিরাজ উল্লাহ, নার্গিস, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ভূঁইয়া শরীফ, হুমায়ুন কবির, সাইফুল ইসলাম, শেখ রাসেল আরিফ ভূঁইয়া, দেলোয়ার হোসেন মিন্টু ওরফে সারেকসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
মেহেদীর দাবি, এই ঘটনার পর তাদের সমর্থনে থাকা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দেওয়া হয়, যার ফলে উভয় পক্ষই আইনি জটিলতায় পড়েছেন।
দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম মানিক বলেন, মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টি সমাধানে সাংগঠনিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে ফেনী ছাত্রদল নেতা রিয়াদ পাটোয়ারীর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম মেহেদীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তার সমস্যার সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।
ভিওডি বাংলা/জা







