কালজানির ভাঙন থামছেই না, চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে স্বপ্নের ঠিকানা

কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে মাত্র তিন দিনেই বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ৭০টি বসতভিটা। ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শতাধিক পরিবার। নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সীমান্তঘেঁষা দুই গ্রামের হাজারো মানুষ।
ভাঙনের শিকার তোফাজ্জল মিয়া বলেন, এর আগেও কয়েকবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছি। কষ্ট করে আবার ঘর তুলেছিলাম। এখন আবার নদী ঘরের কাছাকাছি চলে এসেছে। কীভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচব, বুঝতে পারছি না।
শাজাহান আলী নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “দিন-রাত ঘর সরানোর কাজ করছি। নদী কখন কী নিয়ে যায়, সেই ভয়ে আছি। সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।
শিলখুরি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুফ বলেন, উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে এবং ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন। গত তিন দিনে নদীভাঙনে অন্তত ৭০টি বসতভিটা বিলীন হয়েছে। আরও ৫০টির বেশি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নদীভাঙনের আতঙ্কে সীমান্তঘেঁষা দুই গ্রামের মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন পরবর্তী ভাঙনে কার বাড়িটি হারিয়ে যাবে নদীর গর্ভে?
ভিওডি বাংলা/জাহাঙ্গীর আলম/আ







