ইউজিসির সঙ্গে লিঙ্গ সহিংসতা রোধে কাজ করবে ইউএন উইমেন

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও ইউএন উইমেন বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কয়েকটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে, যার আওতায় প্রাথমিকভাবে পাঁচটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের এক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সহায়তা প্রদানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।সভায় ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম এনালিস্ট শ্রবণা দত্ত ও তোসিবা কাশেম উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক জেসমিন পারভীনও আলোচনায় অংশ নেন।পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হবে পাইলট কার্যক্রমসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্বাচিত পাঁচটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
এসব প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম জোরদার করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘বাংলাদেশের জনপরিসর, কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নিরসন’ প্রকল্প সহায়তা দেবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতিদুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চলতি জুন মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী জুলাইয়ের শুরুতে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। পাশাপাশি গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার জন্য প্রতি তিন মাস অন্তর সমন্বয় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেসলাইন স্টাডি ও তথ্য সংগ্রহবৈঠকে ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা জানান, প্রকল্পের অংশ হিসেবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে একটি বেসলাইন স্টাডি পরিচালনা করা হবে। এই গবেষণার সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে ইউএন উইমেন বাংলাদেশ।গবেষণা পরিচালনার জন্য একটি বিশেষায়িত গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই ও আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করা হবে।
এরপর তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে, যা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।প্রশিক্ষণ ও অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থাউচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
এছাড়া ২০০৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া যৌন হয়রানি প্রতিরোধবিষয়ক নির্দেশনা অথবা ভবিষ্যতে প্রণীত সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ডিজিটাল মনিটরিং টুল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জেন্ডার সংবেদনশীল নীতিমালা প্রণয়নে কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে অঙ্গীকারবৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ইউজিসি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।তিনি বলেন, যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইউএন উইমেন বাংলাদেশের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
ভিওডি বাংলা/জা







