• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

জাপানের মর্যাদাপূর্ণ বায়োটেক অ্যাওয়ার্ড পেলেন কুবির জান্নাতুল ফেরদৌস

কুবি প্রতিনিধি    ৩ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এ.এম.
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। ছবি: ভিওডি বাংলা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড চলতি বছর’ অর্জন করেছেন। এ সম্মাননার মাধ্যমে তিনি প্রথম বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভের অনন্য গৌরব অর্জন করলেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) ড. জান্নাতুল ফেরদৌস নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বায়োটেকনোলজি গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করেছে জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি (এসবিজে)।

ড. জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, তার গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল ন্যানোটেকনোলজিভিত্তিক উন্নত ওষুধ পরিবহন ব্যবস্থা বা ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবন। ওষুধ প্রস্তুত ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্রাব্যতা, স্থায়িত্ব এবং কার্যকরভাবে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি কাজ করেছেন।

বিশেষ করে গ্রোথ ফ্যাক্টর, প্রোটিনসহ বিভিন্ন জৈব অণুর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ক্যারিয়ার সিস্টেম তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে এমন একটি প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়েছে, যা জৈব অণুগুলোকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে পারে।

এই প্রযুক্তি চর্মরোগের চিকিৎসা, চোখে ওষুধ প্রয়োগ এবং ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের থেরাপিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।তার গবেষণার অন্যতম প্রধান সাফল্য হলো ‘ন্যানোজেল ডিসপারশন’ প্রযুক্তির উন্নয়ন। এটি একটি বহুমুখী ড্রাগ ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। গবেষণার ফলস্বরূপ জাপানে একটি পেটেন্টও অর্জিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে প্রযুক্তিটির আরও উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতিকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এই পুরস্কার শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি গর্বের বিষয়।

একজন শিক্ষক হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি আনন্দিত।এই অর্জনের পেছনে দীর্ঘ গবেষণা-প্রচেষ্টা ও অনেকের সহযোগিতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পিএইচডি গবেষণা এবং জাপানে সুপারভাইজারের গবেষণাগারে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের ধারাবাহিক ফল হিসেবে এ স্বীকৃতি এসেছে।তিনি তার জাপানি সুপারভাইজার, গবেষণা দলের সহকর্মী এবং ল্যাবমেটদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ছুটি ও গবেষণাসংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। বিভাগীয় সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং পরিবারের সদস্যদের সমর্থনও তার এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ড. জান্নাতুল ফেরদৌস মনে করেন, ন্যানোজেলভিত্তিক ড্রাগ ডেলিভারি প্রযুক্তি বাংলাদেশের চিকিৎসা ও ওষুধ গবেষণা খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। 

বর্তমানে দেশের ওষুধ শিল্প আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তবে এ ধরনের উদ্ভাবনী গবেষণার মাধ্যমে দেশীয় গবেষক ও ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব পেটেন্ট, নতুন ড্রাগ মলিকিউল এবং আধুনিক ওষুধ পরিবহন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সুযোগ পেতে পারে।

বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জাপানে পরিচালিত গবেষণার আদলে বাংলাদেশেও এ ধরনের গবেষণা সম্প্রসারিত হলে দেশের চিকিৎসা ও ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে) দেশটির অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক সংগঠন। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠান জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি এবং জীবনবিজ্ঞানভিত্তিক তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গবেষণার উন্নয়ন ও প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
অনৈতিক আচরণের অভিযোগে জবির দুই শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
অনৈতিক আচরণের অভিযোগে জবির দুই শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
ঢাকা কলেজের হলসমূহের নাম পরিবর্তনের দাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের
ঢাকা কলেজের হলসমূহের নাম পরিবর্তনের দাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের
ডুয়েটে চলছে ব্লকেড কর্মসূচি
ডুয়েটে চলছে ব্লকেড কর্মসূচি