বগুড়ায় টনসিল অপারেশনের পর গৃহবধূর মৃত্যু

বগুড়ায় টনসিল অপারেশন করতে গিয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় হসপিটালের পরিচালক, মার্কেটিং কর্মকর্তা, ওটি বয় ও দুই নারী কর্মীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর সামনে আসা বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মামলার বাদী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের হিয়াতকুল নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রানু মন্ডল। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১ জুন তার স্ত্রী শাপলা বেগম (৩৫) টনসিল অপারেশনের জন্য বগুড়া শহরের বাদুরতলায় অবস্থিত সারা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন। রাত ৮টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অজ্ঞান করার পরও রোগীর জ্ঞান ফেরেনি এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন।
মঙ্গলবার (২ জুন) বগুড়া সদর থানায় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩০৪এ ধারায় (অবহেলাজনিত মৃত্যু) মামলা রুজু করা হয়। মামলায় হসপিটালের মার্কেটিং কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন, পরিচালক ডা. সফিকুল ইসলাম, ওটি বয় আব্দুল মান্নান, আলেয়া বেগম ও শিল্পী বেগমকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ডা. শুভর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, এসব টাকা হলে সব ম্যানেজ হয়ে যায় ব্যাপার না, অপারেশনের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অপারেশনের আগেই হাসপাতালের কর্মচারীরা রোগীকে ভুল ইনজেকশন প্রয়োগ করায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া মামলায় নার্স হিসেবে অভিযুক্ত আলেয়া বেগমকে নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আলেয়া বেগমের পরিবারের দাবি, তিনি হসপিটালের নার্স নন; বরং আয়া পদে কর্মরত রয়েছেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ডাক্তারকে বাঁচানোর জন্য, একজন আয়াকে আসামি করেছে।
আলেয়া বেগমের পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ডা. শুভকে রক্ষার জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করেছে সদর থানা অফিসার ইনচার্জ ও রোগীর স্বামীর সাথে।
অন্যদিকে, মামলার রুজু নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বগুড়া সদর থানা অফিসার ইনচার্জ এর বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, গত রাত আনুমানিক ১টার দিকে মামলার প্রস্তুত করা হলেও স্বাক্ষর ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর প্রায় ৩টার দিকে মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বগুড়া সদর থানার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাদী মো. রানু মন্ডল অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী অপারেশনের আগে স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের ভুল চিকিৎসা, অবহেলা কিংবা চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ত্রুটির কারণেই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ, মামলার আসামি, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং পুলিশ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ভিওডি বাংলা/আ.স.ম. জাকারিয়া/জা







