৫ বছরেও মেরামত হয়নি কয়ারবিলের ব্রিজ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদাহা ইউনিয়নের কয়ারবিল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কয়ারবিল এলাকার এই সেতুর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেতুর অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। ভাঙা অংশগুলোতে আপাতত বাঁশ, কাঠ, ইটের খোয়া ও মাটিভর্তি বস্তা ব্যবহার করে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সেই ব্যবস্থাও এখন আর নিরাপদ নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান, ছোট ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে এই পথ দিয়ে। সামান্য অসাবধানতা কিংবা অতিরিক্ত চাপের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং কর্মজীবী মানুষ প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, কয়ারবিলের এই সড়কটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সঙ্গে সীমান্তবর্তী কলারোয়া উপজেলার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু সেতুর ভগ্নদশার কারণে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকার ধান, মাছ, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে এখন বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা সময় ও অর্থ—উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, সড়ক ও সেতুর দুরবস্থার কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবহন চালক ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই সেতুর বিকল্প নেই। কোনো রোগীকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে হলে এই পথই সবচেয়ে সুবিধাজনক। কিন্তু সেতুর বর্তমান অবস্থা রোগী পরিবহনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। একইভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুল-কলেজে যাতায়াতও বিঘ্নিত হচ্ছে।
এদিকে সামনে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টিপাত ও পানির চাপ বাড়লে সেতুর অবশিষ্ট অংশও ধসে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে পারেন।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি এখন দুর্ঘটনার অপেক্ষায় রয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে প্রকৌশলগত মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সরকারের দায়িত্বশীল দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব এবং নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কয়ারবিল সেতুর সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। যদি সংস্কার সম্ভব না হয়, তাহলে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ভিওডি বাংলা/আবদুল্লাহ আল মামুন/জা







