গণভোটের ‘খ’ প্রশ্ন নিয়ে বিএনপির লিফলেট বিতরণ

কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত গণভোটের প্রশ্নমালার ‘খ’ নম্বর প্রশ্নকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দাবি করেছে, এই প্রশ্নটি “জুলাই সনদ”-এর ১৮ ও ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর মাধ্যমে মূল সনদের কাঠামো ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।
দলটির নেতাদের অভিযোগ, গণভোটের এই নির্দিষ্ট প্রশ্নটি সনদের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বরং এটি জনমত প্রভাবিত করার একটি প্রচারণামূলক উদ্যোগ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা মনে করেন, এতে করে সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই অবস্থান তুলে ধরতে এবং “জুলাই সনদ”-এর বিভিন্ন দিক জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রাম শহরে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করে জেলা বিএনপি। শহরের প্রধান সড়ক, বাজার এলাকা এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের হাতে লিফলেট তুলে দেন। এ সময় তারা গণভোটের ‘খ’ প্রশ্নের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নীতিগতভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাদের মতে, সনদ অনুযায়ী ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চ পরিষদ গঠনসহ প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা জরুরি। তবে তাদের দাবি, গণভোটের ‘খ’ প্রশ্নটি ওই সনদের ১৮ ও ১৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত নেতারা আরও বলেন, জনগণের অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি প্রস্তাব স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট হওয়া উচিত। কোনো বিতর্কিত বা অস্পষ্ট প্রশ্ন জনগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তারা মন্তব্য করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক উমর ফারুকসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
নেতারা জানান, ভবিষ্যতেও তারা জনগণের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাবেন। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে “জুলাই সনদ”-এর প্রতিটি ধারা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয় এবং একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভিওডি বাংলা/মো. এরশাদুল হক/জা







