• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

তিন বাংলাদেশি যুবককে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠালো রাশিয়া

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ২ জুন ২০২৬, ০৪:৫৬ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে উন্নত জীবনের স্বপ্ন আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় রাশিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের তিন যুবক। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে—পরিবারের অভিযোগ, কনস্ট্রাকশন ভিসায় নিয়ে গিয়ে তাদের জোরপূর্বক রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।

গত ৭ মে রাশিয়ায় যান গোপালপুর উপজেলার মো. আমিনুল ইসলাম (৩০), পবিত্র চন্দ্র (৩৫) ও নজরুল ইসলাম (৪০)।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর একবারই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঈদের রাতে কৌশলে আমিনুল ইসলাম পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা না হলে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবে।”

অন্যদিকে, শুক্রবার রাতে নজরুল ইসলামের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় তার স্ত্রী আছমা বেগমের। সে সময় নজরুল জানান, তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে ৫ জনের দলে ভাগ করে ৬টি এলাকায় জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকার জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন ভিসায় রাশিয়ায় যান দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের মৃত কছর উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান।

একইভাবে মজিদপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র সূত্রধরের একমাত্র ছেলে পবিত্র চন্দ্র বিদেশে যান তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে। অপরদিকে বীর নলহরা গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে নজরুল ইসলাম যান তার বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও চার সন্তান রেখে।

পরিবারগুলোর দাবি, বিদেশে পাঠাতে শেষ সম্বল বিক্রি করে, ঋণ ও সুদের টাকাসহ প্রতিজন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা করে একটি এজেন্সিকে পরিশোধ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জুলিয়া নামের এক রাশিয়ান নারীর মাধ্যমে একদিনে ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একটি হলরুমে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ব্রিফিং দিতে দেখা যায়, যেখানে ওই নারী উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের আনন্দের পরিবর্তে তিন পরিবারের বাড়িতে এখন বিরাজ করছে কান্না ও উদ্বেগ। স্বজনদের একটাই প্রশ্ন—উপার্জনক্ষম সদস্যদের কিছু হলে পরিবার কীভাবে চলবে, সন্তানদের ভবিষ্যৎই বা কী হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তাদের প্রিয়জনদের উদ্ধার করুক এবং প্রতিশ্রুত চাকরির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করুক।

এদিকে পরিবারগুলো অভিযোগ করছে, ঘটনার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস বন্ধ রয়েছে।

এজেন্সির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান অবশ্য আর্মিতে পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে এবং এরপর তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েলফেয়ার সেন্টারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সাকিব মাহমুদ বলেন, রাশিয়ায় পাঠানো ৩০ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধারের বিষয়ে কাজ চলছে।

এদিকে সোমবার রাতে মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, উচ্চ বেতন ও বিভিন্ন সুবিধার প্রলোভনে প্রতারণার মাধ্যমে ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে রাশিয়ায় পাঠানোর অভিযোগে ১ জুন তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আর এস ইন্টারন্যাশনাল, জাবাল-ই-নূর এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ সেল গঠন
প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ সেল গঠন
বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান মুহিদুল ইসলাম
বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান মুহিদুল ইসলাম
শিগগিরই মন্ত্রিসভায় আসতে পারে নতুন মুখ
শিগগিরই মন্ত্রিসভায় আসতে পারে নতুন মুখ