একক ইটিসি ব্যবস্থার পথে বাংলাদেশ, ঈদযাত্রায় মিলল ইতিবাচক ফলাফল

দেশের সব টোল সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলে একক ও সমন্বিত ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পদ্মা ও যমুনা সেতুতে ইটিসি ব্যবস্থার সফল প্রয়োগ শুরু হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহার সময় ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় এই প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা রাখে। ইটিসি লেন ব্যবহার করে হাজারো যানবাহন দ্রুত ও নির্বিঘ্নে পারাপার হওয়ায় যাত্রীদের সময় সাশ্রয় হয়েছে, কমেছে ভোগান্তি ও যানজট। ফলে ঈদযাত্রা হয়ে ওঠে আরও স্বস্তিদায়ক, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল।
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এর
উদ্যোগে পদ্মা ও যমুনা সেতুতে চালু থাকা ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই সেবার ফলে টোল প্লাজায় দীর্ঘ অপেক্ষা ছাড়াই যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ১০ দিনে পদ্মা সেতুর ইটিসি লেন ব্যবহার করে ৪ হাজার ২৪২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে ৬৯ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫০ টাকা।
বর্তমানে পদ্মা সেতুতে নিবন্ধিত ইটিসি যানবাহনের সংখ্যা ৮৭০টি। ইটিসি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৮ হাজার ৯৪০টি যানবাহন এই সুবিধা গ্রহণ করেছে এবং টোল আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার ৯৫০ টাকা।
একই সময়ে যমুনা সেতুর ইটিসি লেন ব্যবহার করে ৪ হাজার ৮২৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৬২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমানে যমুনা সেতুতে নিবন্ধিত ইটিসি যানবাহনের সংখ্যা ৬ হাজার ৭৭৪টি। ইটিসি ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ২২ হাজার ৪৭৯টি যানবাহন ইটিসি লেন ব্যবহার করেছে এবং টোল আদায় হয়েছে ৫৫ কোটি ৬ লাখ ৮২ হাজার ৩৫০ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইটিসি লেনের মাধ্যমে যানবাহনগুলো টোল প্লাজায় না থেমেই ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করতে পারছে। ফলে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি খরচ কমছে এবং টোল প্লাজাকেন্দ্রিক যানজটও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
ঈদযাত্রার এই সাফল্যের পেছনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নিবিড় তদারকি, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সহযোগিতা এবং যাত্রীদের সচেতন অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে দেশের বিভিন্ন সড়ক, সেতু ও ফ্লাইওভারে বর্তমানে চালু থাকা বিচ্ছিন্ন ইটিসি ব্যবস্থাগুলোকে একক ও সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্যে সেতু বিভাগের সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও টোল পরিশোধ পদ্ধতিতে ভিন্নতা থাকায় ব্যবহারকারীদের একাধিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। এসব জটিলতা দূর করে একটি অভিন্ন ও ব্যবহারবান্ধব ইটিসি ব্যবস্থা চালুর জন্য কমিটি কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং সরকারের প্রত্যক্ষ তদারকিতে দ্রুত সময়ের মধ্যেই দেশের সকল টোল স্থাপনায় সমন্বিত ইটিসি ব্যবস্থা চালু হবে। এর ফলে জনসাধারণ আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক সেবা পাবে এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







