ঈদের ছুটিতে সড়কে ঝরল ৩৮ প্রাণ

ঈদুল আজহার পাঁচ দিনের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য, শিশু, শিক্ষার্থী ও মোটরসাইকেল আরোহী রয়েছেন। ঈদযাত্রা ও ঈদ-পরবর্তী ভ্রমণকে কেন্দ্র করে সড়কে যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকদের অসতর্কতা এবং মোটরসাইকেলের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে নেত্রকোণায়, যেখানে পৃথক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক পরিবারের চার সদস্য—স্বামী, স্ত্রী ও তাদের দুই কন্যাসন্তান নিহত হন। এছাড়া কলমাকান্দায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুই তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
ময়মনসিংহে পৃথক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নাজিরপুরের একটি পরিবারের তিন সদস্য গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। চট্টগ্রামে ঈদের দিন বাস ও লেগুনার সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পৃথক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বাস খাদে পড়ে এক নারী নিহত হন। এছাড়া অটোরিকশাকে নৈশকোচের ধাক্কা ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে দুই কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। পটুয়াখালীর গলাচিপায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই তরুণ নিহত হন।
বরিশালের গৌরনদীতে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পিকআপভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের একমাত্র সন্তান নিহত হয়েছেন।
এছাড়া সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক এবং কুষ্টিয়ার মিরপুরে সেনাসদস্যবাহী বাস ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় সেনাসদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদকেন্দ্রিক অতিরিক্ত যানচাপ, চালকদের বেপরোয়া গতি, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক বিধি অমান্য করার প্রবণতাই অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ। তারা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/আ







