বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় ঢাকা

বিশ্বব্যাপী দ্রুত নগরায়ণ, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। এর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে জনবহুল শহরগুলোতে। দীর্ঘদিন ধরেই দূষিত বাতাসের সমস্যায় ভুগছে রাজধানী ঢাকা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালেও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে বাংলাদেশের রাজধানী।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকালে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ছিল ১৭৮। এই মাত্রার বায়ু জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দূষিত বাতাস দীর্ঘ সময় ধরে গ্রহণ করলে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সমস্যা, চোখে জ্বালাপোড়া ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তালিকায় সবচেয়ে দূষিত শহরের অবস্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির AQI স্কোর রেকর্ড করা হয় ৩০০, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। একই সময়ে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা ১৬০ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ভারতের রাজধানী দিল্লির স্কোর ছিল ১৫৫ এবং নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর স্কোর ছিল ১৫২, যা তাদের যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে নিয়ে যায়।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, AQI স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ভালো বায়ুমান হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোরকে মাঝারি বলা হয়। আর ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে তা সাধারণ মানুষের জন্যও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পড়ে।
এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে AQI থাকলে পরিস্থিতিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এমন অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের বাইরে কম বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল সীমিত রাখতে বলা হয়। আর AQI ৩০১ ছাড়িয়ে গেলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ভিওডি বাংলা/জা







