• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৯ মে ২০২৬, ০৮:৫১ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবনায় এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা বর্তমান ৫৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, উপকারভোগী প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল পাবে ১৫ টাকা কেজি দরে। এই সুবিধা বছরে ছয় মাস দেওয়া হবে। এজন্য সরকারের সম্ভাব্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ১০.৮০ লাখ মেট্রিক টন চালের অর্থনৈতিক মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ।

বর্তমানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ পরিবার প্রতি কেজি চাল ১৫ টাকা দরে পাচ্ছে।

আগে এই কর্মসূচিতে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করা হলেও পরে মূল্য সমন্বয় করা হয়। সরকারের ভাষ্য, বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হলে গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে মৌসুমি কর্মহীনতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মূল্যস্ফীতির সময়ে এ কর্মসূচি বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকার খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমকে আরো ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। উপকারভোগী নির্বাচন, বিতরণ ও তদারকিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে, যাতে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলো সহজে সুবিধা পায়।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে আরো পাঁচ লাখ পরিবার যুক্ত করার প্রসঙ্গে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে গত বছর খাদ্য উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে খাদ্য আমদানির পরিমাণও বেড়েছে। চলতি বছরে তা ৭০ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন প্রায় ২ শতাংশ কমেছে, যা বাজারে চাপ তৈরি করেছে। ওয়ার্ল্ড গ্রেইন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী এ প্রবণতা খাদ্য সরবরাহব্যবস্থায় অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

এছাড়া দেশের হাওরাঞ্চলে বন্যার কারণে উল্লেখযোগ্য ফসলহানি ঘটেছে, যা সামগ্রিক উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সব মিলিয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা আরো স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকার সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

দারিদ্র্য বিমোচনে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচিতেই প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষকে নতুন করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দরিদ্র ও ভালনারেবল জনগোষ্ঠীকে নগদ অর্থ দেওয়ার বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও বাড়াচ্ছে সরকার। সব মিলিয়ে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় ১৮টি ভাতা প্রদান ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে চলতি অর্থবছর মোট দুই কোটি ৬০ লাখ উপকারভোগীর জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২১ হাজার ৭০১ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এসব কর্মসূচির আওতায় ৩৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকার সুবিধা পাবে তিন কোটি ৬৩ লাখ মানুষ।

সম্প্রতি সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর বাজেট চূড়ান্তকরণ বিষয়ক এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা  নিশ্চিত করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিএনপি সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু এই চারটি কর্মসূচিতেই এক কোটি ২১ লাখ নতুন উপকারভোগী যুক্ত হবে। এ ছাড়া বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুত মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমে প্রায় দুই লাখ ৫৬ হাজার উপকারভোগী সুবিধা পাবেন।

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তব্যে বাংলাদেশকে কল্যাণকর রাষ্ট্রে রূপান্তর করার রূপরেখা তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী।  চলতি অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দের পরিমাণ চলতি অর্থবছরের এক লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এটি বেড়ে এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীর সংখ্যা ৪১ লাখে উন্নীত করতে চায় সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ শুরু করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন উদ্বোধনের মাধ্যমে। ফ্যামিলি কার্ডধারীদের প্রতি মাসে দুই হাজা ৫০০ টাকা ভাতা দিচ্ছে সরকার। আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ থাকছে প্রায় ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।

সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম। চলতি অর্থবছর দুই হাজার ৬৭ জন কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনতে কাজ করছে। আগামী অর্থবছর ৪২.৫০ লাখ কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডধারী কৃষকরা বছরে দুই হাজার ৫০০ টাকা সরকার থেকে নগদ সহায়তা পাবেন। এতে আগামী অর্থবছর সরকারের ব্যয় হবে ১০৬২.৫০ কোটি টাকা।

বর্তমান সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি খাল খনন কর্মসূচি। চলতি অর্থবছর এই কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী রয়েছে ২৬.৬৭ লাখ। আগামী অর্থবছর উপকারভোগীর সংখ্যা আরো বাড়িয়ে ৩৪.০২ লাখে উন্নীত করতে চায় সরকার। খাল খনন কর্মসূচিতে চলতি অর্থবছর সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৮৮ কোটি টাকা, তবে আগামী অর্থবছর খরচ কমে দাঁড়াবে ৭৫ কোটি টাকা।


ভিওডি বাংলা/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মঙ্গলবার ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদের বিষয়ে রিট শুনানি
হামের টিকা মঙ্গলবার ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদের বিষয়ে রিট শুনানি
বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ও উর্বর ক্ষেত্র বাংলাদেশ : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ও উর্বর ক্ষেত্র বাংলাদেশ : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে: শামস ইস্কান্দার
শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে: শামস ইস্কান্দার