• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

তামাকপণ্যের দাম বাড়াতে হবে মূল্যস্ফীতির চেয়েও বেশি : ধর্মসচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৩ মে ২০২৬, ০৩:৩০ পি.এম.
ছবি : ভিওডি বাংলা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি উঠেছে জাতীয় সেমিনারে। 

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র (ডব়্প) আয়োজিত “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কার্যকরভাবে সকল তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, “বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য এখনও অনেক সস্তা। ফলে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি অবশ্যই মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির চেয়েও বেশি হতে হবে।”

তিনি জানান, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চিনি, আলু, আটা, ডিম ও সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম ২৭ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অথচ একই সময়ে বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে মাত্র ৬ থেকে ১৫ শতাংশ। এতে তামাকপণ্য আরও সহজলভ্য হয়ে উঠছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব (ভ্যাট মনিটরিং ও আইটি) নাহিদ নওশাদ মুকুল বলেন, বর্তমান কর কাঠামোর কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, কার্যকর তামাক কর বাস্তবায়ন করা গেলে ধূমপান কমবে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল। 

তিনি বলেন, বাজারে বিক্রিত প্রায় ৯০ শতাংশ সিগারেটই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের, যা তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে দ্রুত আসক্তি তৈরি করছে। তাই আগামী বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি।

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতারউজ-জামান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। তিনি বলেন, “তামাকখাতকে শুধু রাজস্ব আয়ের দৃষ্টিতে না দেখে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ডব়্প-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন, বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রতিনিধি জেবা আফরোজা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান।

ভিওডি বাংলা/এমআই/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঢাকার যেসব এলাকায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
ঢাকার যেসব এলাকায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
ভাড়া বাসা থেকে ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ভাড়া বাসা থেকে ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল আরো আধুনিকায়ন হচ্ছে
ডিএসসিসির উদ্যোগ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল আরো আধুনিকায়ন হচ্ছে