ঈদকে সামনে রেখে ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল চক্রটির : ডিবি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক ও ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মো. লিটন জব্বার (৫২), ইসমাইল হোসেন মামুন (৫৫), মো. বাবুল বাবু (৪৫), আইয়ুব ভূইয়া (৩০) ও মো. রোমান (৩৫)।
ডিবি জানায়, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বিকাশ ও নগদ এজেন্টদের কালেকশনের টাকা লুট এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল চক্রটি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১১ মে) বিকালে যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ২টি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ৭ রাউন্ড গুলি, ২ কেজি ২০০ গ্রাম বিস্ফোরক, একটি চাপাতি ও ২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারি বিভাগ তথ্য পায় যে, যাত্রাবাড়ী থানাধীন শহীদ ফারুক সড়কের একটি ফার্নিচার দোকানের সামনে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
তিনি বলেন, দলটি দীর্ঘদিন ধরে যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র, গান পাউডার ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ করে হাতবোমা তৈরি করত। পরবর্তীতে এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে বিক্রি করা হতো। একইসঙ্গে অস্ত্র ও বোমার ভয় দেখিয়ে ডাকাতির মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করত তারা।
ডিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পরিচয় গোপন করতে বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করত। পাঁচজনের মধ্যে চারজন কেরানীগঞ্জের এবং একজন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৪টির বেশি মামলা রয়েছে।
মাদক ও চাঁদাবাজবিরোধী অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিএমপির চলমান বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৪ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ, ১৩২ জন চাঁদাবাজের সহযোগী, ২৬১ জন ছিনতাইকারী এবং ১৮ জন মাদক কারবারি।
কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে গরুবাহী ট্রাক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার।
ভিওডি বাংলা/এম আই/বিন্দু







