ঢাকাকে নিজের শহর ভাবতে হবে: আবদুস সালাম

ঢাকাকে নিজের শহর ভাবতে হবে। আমি যদি মনে করি এটা আমার শহর, তাহলে আমি নিজেই এর পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর নগর ভবনে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌন্দর্য বর্ধন কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় নগর সৌন্দর্যবর্ধন, পরিবেশ রক্ষা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ এবং সিটি করপোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। নগর উন্নয়নের দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশনের নয়, নাগরিকদেরও সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।
আবদুস সালাম বলেন, শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে যারা বিশেষ অবদান রাখবে, ভবিষ্যতে তাদের জন্য কিছু প্রণোদনা বা ছাড়ের বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে। তবে আগে আমাদের দেখতে হবে কার্যক্রম কতটা সফল হয় এবং নাগরিকরা কতটা সম্পৃক্ত হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি সরকারি পশু হাসপাতাল এলাকায় গিয়ে তিনি বৃষ্টির পানিতে এডিস মশার লার্ভা দেখতে পান। শুধু সিটি করপোরেশনকে দায়ী করলে হবে না। মশার জন্ম প্রতিরোধেও সবার দায়িত্ব রয়েছে।
প্রশাসক আরও বলেন, আমি সবসময় বলি, এই দায়িত্ব ৫০ শতাংশ সিটি করপোরেশনের আর ৫০ শতাংশ নাগরিকদের। আমরা সবাই দায়িত্ব পালন করলে ঢাকাকে বদলানো অবশ্যই সম্ভব।
সিটি করপোরেশনের আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো আমরা পুরো বাজেট সরকারের কাছ থেকে পাই না। নাগরিকদের কর ও বিভিন্ন উৎস থেকে আয় করেই আমাদের রাস্তা, লাইটিং, খাল খননসহ সব সেবা পরিচালনা করতে হয়।
তিনি জানান, বর্তমান আয় দিয়ে কর্মচারীদের বেতন দেওয়া পর্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছরে সিটি করপোরেশনের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় তিনি বেইলি রোড, মিন্টো রোড, ধানমন্ডি লেক ও পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক এলাকাগুলো সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যাংক, বীমা ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে নির্দিষ্ট অংশের দায়িত্ব নিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করতে পারে। এতে শহর যেমন সুন্দর হবে, তেমনি সামাজিক দায়বদ্ধতাও পালন হবে।
ফ্লাইওভারের নিচের জায়গাগুলো বাগানে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, এসব স্থান বর্তমানে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে এবং সেগুলোকে সবুজায়নের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন করা হবে।
পলিথিন ব্যবহার বন্ধে সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি।
গাছ লাগানোর পর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সবশেষে মো. আবদুস সালাম বলেন, সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা বদলে যাবে। আল্লাহ সুযোগ দিলে পাঁচ বছরের মধ্যেই পরিবর্তনের দৃশ্যমান ফল পাওয়া সম্ভব।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু







