তেল সংকটে বিকল্প ভাবনা:
মোটরসাইকেলকে প্যাডেল সাইকেলে রূপ দিলেন মেকানিক আমিনুল

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন স্থানীয় মেকানিক আমিনুল ইসলাম। পেট্রোলের অভাবে নিজের শখের মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে না পেরে সেটিকেই প্যাডেলচালিত সাইকেলে রূপান্তর করেছেন তিনি। তার এই অভিনব উদ্ভাবন ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে মোটরসাইকেল ব্যবহার করলেও সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট আমিনুলের জন্য বড় সমস্যায় পরিণত হয়। দীর্ঘ সময় তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পারায় কাজের ক্ষতি হচ্ছিল। এতে আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। এমন পরিস্থিতি থেকেই বিকল্প চিন্তার সূচনা।
নিজের কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিনি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অকার্যকর করে সেটিকে প্যাডেলচালিত ব্যবস্থায় রূপ দেন। ফলে এখন আর তেলের প্রয়োজন হয় না; সম্পূর্ণ পায়ের শক্তিতেই চালানো যাচ্ছে যানটি। এতে খরচ নেই, পরিবেশ দূষণও নেই-দুই দিক থেকেই এটি লাভজনক বলে মনে করছেন তিনি।
আমিনুলের এই উদ্ভাবনী যানটি দেখতে প্রতিদিনই তার বাড়ি ও কর্মস্থলে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষজন। অনেকে আগ্রহ নিয়ে নিজেও চালিয়ে দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এটি শুধু একটি নতুন ধারণাই নয়, বরং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধানের উদাহরণ।
দর্শনার্থীদের একজন বলেন, “কয়েকদিন আগেও এটি একটি সাধারণ মোটরসাইকেল ছিল। এখন এটি প্যাডেলচালিত সাইকেলে রূপ নিয়েছে-দেখতে যেমন অদ্ভুত, চালাতেও তেমন মজার।”
এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমি গরিব মানুষ, মেকানিকের কাজ করে সংসার চালাই। তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, এতে দোকানের কাজ বন্ধ থাকত। আয় না থাকলে পরিবারও কষ্টে পড়ত। তাই নিজের মতো করে একটা সমাধান বের করেছি। এখন প্যাডেল চালিয়েই যাতায়াত করতে পারছি, তেলের চিন্তা নেই।”
স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব ও কম খরচের যানবাহন তৈরিতে অনুপ্রেরণা হতে পারে। জ্বালানি সংকটের মতো সমস্যায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে সৃজনশীল সমাধানের এটি একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
ভিওডি বাংলা/জাহাঙ্গীর আলম/জা







